“গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষা করতে হবে” ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধান অতিথির বক্তেব্যে ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়াই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ জন্য দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে শামা ওবায়েদ বলেন, দেশের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।” আজ বিকেলে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরের নগরকান্দায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। নগরকান্দা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামা ওবায়েদ ইসলাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যায়। ওই সময় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে নানা সংকট তৈরি হয়েছিল। শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেই সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে দেশের মানুষ নানা ধরনের নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বহু মানুষ আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এখনো দেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে জনগণের জীবন ও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষা করতে হবে। আলোচনা সভা শেষে নগরকান্দার প্রধান প্রধান সড়কে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। র্যালি শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।


