ফরিদপুর জেলায় হামের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরে হামের প্রকোপে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ২১ জন শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ জন ভর্তি হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে।
আজ (বুধবার, ২৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘ এই সময়ে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২ হাজার ২২৩ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ হাজার ৮৫৫ জন রোগী তালিকাভুক্ত হয়েছেন। দুই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ হাজার ৭৮ জনে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের সামগ্রিক প্রতিবেদনে জেলাজুড়ে সন্দেহভাজন রোগীর মোট সংখ্যা ৭ হাজার ২১০ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন কোনো মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়নি।
তবে চলতি বছরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামে আক্রান্ত হয়ে ২১ জনের মৃত্যুর তথ্য ওই প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বর্তমানে জেলার এই দুই হাসপাতালে মোট ৯৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ২৯ জন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭০ জন রোগী ভর্তি আছেন। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩২ জন রোগী। উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাবের মাত্রা ভিন্ন। এর মধ্যে বোয়ালমারীতে ২৮ জন, সালথায় ২৩ জন, চরভদ্রাসনে ১৭ জন, সদরপুরে ১৪ জন, ভাঙ্গায় ১২ জন, মধুখালীতে ৬ জন, ফরিদপুর সদরে ৫ জন এবং নগরকান্দায় ২ জন রোগী বর্তমানে চিকিৎসাধীন বা প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রয়েছে এবং আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা তৎপর রয়েছেন।

