Wednesday, 28 October 2026
  • Home  
  • শিক্ষার আলো ছড়ানো দুই শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠাতা সংবর্ধিত: চরাঞ্চলে পরিবর্তনের অনন্য গল্প
- ফরিদপুর জেলার খবর

শিক্ষার আলো ছড়ানো দুই শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠাতা সংবর্ধিত: চরাঞ্চলে পরিবর্তনের অনন্য গল্প

আশির দশকের শেষ ভাগ। প্রমত্তা পদ্মার চরাঞ্চল ঘিরে গড়ে ওঠা ফরিদপুর সদর উপজেলার জনপদ চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন। শিক্ষা, যোগাযোগ আর চিকিৎসায় চরমভাবে পিছিয়ে থাকা সেই এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তখন প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল একটি আলোর প্রদীপ। সেই তাগিদ থেকেই বর্ধিষ্ণু পরিবারের সন্তান মো. আখতারুজ্জামান খাঁনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জন্ম নেয় ‘গোলাপবাগ’। সময়ের পরিক্রমায় সেই গোলাপবাগ রূপ […]

আশির দশকের শেষ ভাগ। প্রমত্তা পদ্মার চরাঞ্চল ঘিরে গড়ে ওঠা ফরিদপুর সদর উপজেলার জনপদ চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন। শিক্ষা, যোগাযোগ আর চিকিৎসায় চরমভাবে পিছিয়ে থাকা সেই এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তখন প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল একটি আলোর প্রদীপ। সেই তাগিদ থেকেই বর্ধিষ্ণু পরিবারের সন্তান মো. আখতারুজ্জামান খাঁনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জন্ম নেয় ‘গোলাপবাগ’। সময়ের পরিক্রমায় সেই গোলাপবাগ রূপ নেয় এক শিক্ষানগরীতে। সেখানে একে একে গড়ে ওঠে গোলাপবাগ লতিফুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক মহিলা বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ ও চিকিৎসা কেন্দ্রসহ নানা সামাজিক প্রতিষ্ঠান।

এই প্রতিষ্ঠানের হাত ধরেই বদলে যেতে থাকে পুরো চরাঞ্চলের চিত্র। দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষা সেবায় নিয়োজিত থেকে সম্প্রতি অবসর গ্রহণকারী দুই শিক্ষক এবং এই জনপদের স্বপ্নদ্রষ্টাকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সংবর্ধনা জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার বিকালে বিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বিদ্যালয়ের সূচনালগ্ন থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. কবিরুল আলম এবং সহকারী শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে তাদের দীর্ঘ বর্ণিল কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা জানানো হয়। পাশাপাশি, শিক্ষা ও সামাজিকভাবে পশ্চাতপদ এলাকায় ‘গোলাপবাগ’ প্রতিষ্ঠা করে চরাঞ্চলের মানুষকে আলোর পথ দেখানো এবং প্রাত্যহিক তত্ত্বাবধান ও উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ শিক্ষানুরাগী হিসেবে সংবর্ধিত করা হয় প্রতিষ্ঠাতা মো. আখতারুজ্জামান খাঁনকে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে স্মৃতিময় করে রাখতে অতিথিদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা স্মারক।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আলী রেজা খাঁনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাছিমা আক্তার।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মো. আখতারুজ্জামান খাঁন ও তার পরিবার গোলাপবাগ প্রতিষ্ঠা না করলে অত্র চরাঞ্চলের মানুষ শিক্ষা ও সভ্যতায় আরও পিছিয়ে থাকত। সুদূরপ্রসারী এই চিন্তার ফলেই গোলাপবাগের প্রতিষ্ঠানগুলো আজ এতদাঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। তারা আরও বলেন, বিদ্যালয়ের সূচনালগ্ন থেকে নিরলস সেবা দিয়ে যাওয়া দুই শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় গোলাপবাগ আজ দুর্গম চরাঞ্চলের সভ্যতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বক্তারা সংবর্ধিত শিক্ষকদ্বয়ের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগপ্রবণ মুহূর্ত ছিল সংবর্ধিত শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগীদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার সময়। নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তারা স্মৃতিমেদুর হয়ে পড়েন এবং গোলাপবাগের অগ্রযাত্রায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পাদক ও প্রকাশক :

নির্বাহী সম্পাদক :

যোগাযোগ :

Email Us:nagorikbarta2026@gmail.com

হটলাইন :017xxxxxxxxxxx