ফরিদপুরের হাই কেয়ার স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছে অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন ‘চেষ্টা’। আজ (সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে স্কুল ভবন মেরামতের জন্য দুই বান্ডিল টিন, শিশুদের জন্য খেলনা ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে। একই আয়োজনে রোটারী ক্লাব অব ঢাকা সর্বজয়ার পক্ষ থেকে স্কুলের জন্য নগদ অর্থ ও শিশুদের মধ্যে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ‘চেষ্টা’ ও ‘ঢাকা শেকড়’-এর যৌথ উদ্যোগে স্কুল প্রাঙ্গণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ২০টি ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়।
২০১১ সালে যাত্রা শুরু করা ‘চেষ্টা’ মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত একটি সামাজিক সংগঠন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি ১৯৭১ সালের বীরকন্যা, সমাজের অবহেলিত ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ‘চেষ্টা’র প্রেসিডেন্ট লায়লা নাজনীন হারুন, সেক্রেটারি গুলশান নাসরীন চৌধুরী, ফরিদপুর হাই কেয়ার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রাশিদা আখতারী খানম, রোটারী ক্লাব অব ঢাকা সর্বজয়ার প্রেসিডেন্ট সাকেরা খান এবং ঢাকা শেকড়ের অ্যাডমিন নাসিমা জামান।
এ ছাড়া ‘চেষ্টা’র সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ‘চেষ্টা’র প্রেসিডেন্ট লায়লা নাজনীন হারুন বলেন, “হাই কেয়ার স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা আমাদের সমাজেরই অংশ। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” রোটারী ক্লাব অব ঢাকা সর্বজয়ার প্রেসিডেন্ট সাকেরা খান বলেন, “এই শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
ঢাকা শেকড়ের অ্যাডমিন নাসিমা জামান বলেন, “বৃক্ষরোপণ আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার।” ‘চেষ্টা’র সেক্রেটারি গুলশান নাসরীন চৌধুরী সংগঠনটির বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “প্রতিবন্ধী শিশুরা করুণার পাত্র নয়, ভালোবাসার পাত্র। মানবতার হাত বাড়িয়ে ‘চেষ্টা’ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।”
ই কেয়ার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রাশিদা আখতারী খানম ঢাকা থেকে আগত সংগঠনগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আপনাদের এই ভালোবাসা আমাদের শিশুদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।” আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। বক্তারা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে দাঁড়াতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

