‘ডিজিটাল যুগে অপতথ্য রুখতে তথ্যপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণ নয়, চাই অবাধ তথ্যে অভিগম্যতা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরে যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
আজ (সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ফরিদপুর ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাজহারুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. গোলাম মোস্তফা জেলার ৭৬টি সরকারি দপ্তরের তথ্য বাতায়নে ৭টি নির্ধারিত বিষয়ের ওপর পরিচালিত ফলোআপ জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন।
জরিপের চিত্রে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর সরকারি দপ্তরগুলোতে তথ্য হালনাগাদের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। মাত্র ১৭টি প্রতিষ্ঠানে তথ্য হালনাগাদের হার বাড়লেও ৩৪টি প্রতিষ্ঠানে তা হ্রাস পেয়েছে এবং ৩৩টি প্রতিষ্ঠানে তথ্যের স্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী তথ্য চাওয়া এবং প্রদানের বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও নাগরিক—উভয় পক্ষকেই সচেতন হতে হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তথ্য চাওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”
সভায় বক্তারা তথ্য অধিকার আইন-২০০৯-এর কার্যকর বাস্তবায়ন, সরকারি দপ্তরগুলোর ওয়েব পোটালে নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ করা এবং জনগণের জন্য তথ্যপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করার জোর দাবি জানান। বর্তমান ডিজিটাল যুগে ভুয়া তথ্য, অপপ্রচার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর বিভ্রান্তিকর তথ্যের ঝুঁকি উল্লেখ করে যেকোনো তথ্য প্রকাশ বা শেয়ার করার আগে কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সনাক ফরিদপুরের সভাপতি অধ্যাপক শিপ্রা রায়, সহ-সভাপতি পান্না বালা, সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. মোজাম্মেল হক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুর। উক্ত সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

