Monday, 28 September 2026
  • Home  
  • কালীবাড়ি মন্দিরের চুরি: কোটি টাকার কালীমূর্তিসহ মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪
- ফরিদপুর জেলার খবর

কালীবাড়ি মন্দিরের চুরি: কোটি টাকার কালীমূর্তিসহ মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

ফরিদপুর শহরের ঐতিহাসিক কালীবাড়ি মন্দিরে চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার ছয় দিনের মধ্যে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, স্বর্ণ ও রূপার অলংকারসহ চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা চুরি চক্রের মূল অভিযুক্তসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত […]

ফরিদপুর শহরের ঐতিহাসিক কালীবাড়ি মন্দিরে চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ঘটনার ছয় দিনের মধ্যে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, স্বর্ণ ও রূপার অলংকারসহ চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা চুরি চক্রের মূল অভিযুক্তসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূজা-অর্চনা শেষে মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন দরজায় তালা দিয়ে চলে যান। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে মন্দিরে গিয়ে তারা দেখতে পান, প্রধান ফটকের তালা কাটা। পরে মন্দিরের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা প্রায় ২০ কেজি ওজনের প্রাচীন কষ্টিপাথরের কালীমাতার বিগ্রহ, দেবীর পরিহিত স্বর্ণালংকার, পিতলের বিভিন্ন প্রতিমা এবং রূপার অলংকার চুরি করে নিয়ে গেছে।
পুলিশ জানায়, চুরি যাওয়া কালীমূর্তিটির আনুমানিক মূল্য এক কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকারের মূল্য আনুমানিক সাড়ে ১১ লাখ টাকা। পিতলের বিষ্ণু, রাধাকৃষ্ণ ও মনসা মূর্তির মোট ওজন প্রায় আট কেজি। মহাদেবের সঙ্গে থাকা রূপার নাগসহ অন্যান্য অলংকারের মোট ওজন প্রায় ২০ ভরি, যার আনুমানিক মূল্য ৯০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় মন্দির কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানায় মামলা করা হয়।

মামলার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), কোতোয়ালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আসামি সাজেদা বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বোয়ালমারীতে তাঁর বসতঘরের রান্নাঘরের মাটির নিচ থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রূপার অলংকার এবং মন্দিরের ছয়টি পিতলের মূর্তি উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, মূল অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান সাদ্দাম ও আল-আমিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বোয়ালমারীর রূপাপাত গ্রামের একটি বসতবাড়ির পেছনের মাটির নিচ থেকে অক্ষত অবস্থায় কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সাদ্দামের দেওয়া তথ্য ও এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেখানো মতে বোয়ালমারী স্বর্ণপট্টির একটি জুয়েলার্সের দোকান থেকে কানের দুল, টিকলিসহ প্রতিমার বিভিন্ন অলংকার উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আসাদুজ্জামান সাদ্দাম, সাজেদা বেগম, আল-আমিন ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান। পুলিশের দাবি, সিডিএমএসের তথ্য পর্যালোচনায় সাদ্দামের বিরুদ্ধে চুরি, দস্যুতা, ডাকাতি ও মূর্তি চুরিসহ ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। আল-আমিনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় আটটির বেশি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চাঞ্চল্যকর এ চুরির ঘটনার পর স্বল্প সময়ের মধ্যে চুরি যাওয়া সব মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পাদক ও প্রকাশক :

নির্বাহী সম্পাদক :

যোগাযোগ :

Email Us:nagorikbarta2026@gmail.com

হটলাইন :017xxxxxxxxxxx