ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট ১ নং সড়ক এলাকায় ‘জনতা ল্যাবরেটরিজ আয়ুর্বেদিক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গোপন কারখানা ও গুদামে যৌথ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও এসআরবি । একটি আবাসিক ভবনের গোপন গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ভেজাল আয়ুর্বেদিক ওষুধ, মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও মানহীন শিশু খাদ্য জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ল্যাবরেটরিটির দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তিকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯ থেকে শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘন্টা ব্যাপী অভিযান পরিচালিত হয়। ফরিদপুরের গোয়ালচামট ১ নং সড়কের একটি আবাসিক ভবনে গোপনে ‘জনতা ল্যাবরেটরিজ আয়ুর্বেদিক’-এর এই গুদাম ও কারখানা পরিচালিত হয়ে আসছিল।
এর আগে ( ২২ সেপ্টেম্বর) পরিচালিত অপর এক অভিযানে একই কারখানার মালিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) ফরিদপুরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয় ।
ওই অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে এসআরবি ও জেলা প্রশাসন অনুসন্ধান চালিয়ে এই গোপন ওয়ারহাউস বা গুদামটির সন্ধান পায়। অভিযানকালে সেখান থেকে আনুমানিক ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ক্ষতিকর কাঁচামাল, কেমিক্যাল ও তৈরি ভেজাল ওষুধ জব্দ করা হয়। অভিযান চলাকালে ভেজাল ও ক্ষতিকর ওষুধ বিক্রয় ও মজুদের অপরাধে ল্যাবের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এক কর্মীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। উদ্ধারকৃত সকল ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও ভেজাল ওষুধ জব্দ করে ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া গুদামে ব্যবহৃত ওষুধ তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম (ইকুইপমেন্ট) যাতে পুনরায় অন্য কোথাও ব্যবহার করা না যায়, সেজন্য সেগুলো নিষ্ক্রিয় বা ভেঙে ফেলার (ডিসম্যান্টল) আদেশ দেওয়া হয়েছে। ভবনের মালিককে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুত সরঞ্জামগুলো অপসারণ করা হয় এবং এই ভবনে জনতা ল্যাবরেটরিজের আর কোনো অবৈধ কার্যক্রম চালাতে না দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা শেষে ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাকিব রহমান আকন্দ জানান,”পূর্ববর্তী এক অভিযানের সূত্র ধরে আমরা গোয়ালচামট ১ নং সড়ক এলাকার এই আবাসিক ভবনে গোপন গুদামের সন্ধান পাই। এখানে আয়ুর্বেদিক ওষুধের আড়ালে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কেমিক্যাল দিয়ে ওষুধ ও শিশু খাদ্য তৈরি ও মজুদ করা হচ্ছিল। জব্দকৃত আনুমানিক আড়াই লাখ টাকার মালামাল বাজেয়াপ্ত করে ধ্বংস করা হচ্ছে এবং এই ভবনে ল্যাবরেটরিটির সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।”
অভিযানে উপস্থিত এসআরবি (ঝজই)-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেজাল ওষুধ ওব অসাধু চক্রান্তের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর তদারকি অব্যাহত থাকবে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য কেমিস্ট ও সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।


