তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে এশিয়ান পার্লামেন্টারি অ্যাসেম্বলির (এপিএ) সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্স স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধি দল।
২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় এ সভায় দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বন্ধন আরও গভীর করার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল।
প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, তাজিকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব ড. মো. ওহিদুজ্জামান।
সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি তুলে ধরে। একই সঙ্গে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ, সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর তাজিকিস্তানের সংসদ ভবনে দেশটির সংসদের স্পিকার ফয়েজালি ইদিজোদার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। বৈঠকে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও বহুমুখী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের মধ্যে পাট, বস্ত্র, ওষুধ, জনশক্তি রপ্তানি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। পাশাপাশি দুই দেশের সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তাজিকিস্তানের স্পিকারও এ ধরনের একটি গ্রুপ গঠনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। ফয়েজালি ইদিজোদা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের সাফল্য কামনা করেন এবং বাংলাদেশ-তাজিকিস্তানের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য ও পানি নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় তাজিকিস্তানের স্পিকার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমকে সুবিধাজনক সময়ে তাজিকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। পাশাপাশি দুই দেশের সংসদের মধ্যে যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক সফরের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও বহুমুখী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তাজিকিস্তানের সংসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, আইন প্রণয়ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়, পারস্পরিক সংসদীয় সফর এবং বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।


