পেপারবিহীন, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় সংসদের নথি ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংরক্ষণ ও আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (এমপি) এবং কমিটির সদস্য ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ ও এ বি এম মোশাররফ হোসেন। সাক্ষাৎকালে সংসদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, প্রস্তাবিত ই-পার্লামেন্ট ব্যবস্থায় বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষার সংস্করণ থাকবে। এর ফলে সংসদীয় নথি তৈরি, সংরক্ষণ, অনুসন্ধান ও প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত আদান-প্রদান সহজ হবে। একই সঙ্গে কাগজের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সংসদীয় কার্যক্রমে সময় ও প্রশাসনিক ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডেপুটি স্পিকারকে চেয়ারম্যান করে একটি কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন স্পিকার। কমিটি প্রস্তাবিত সিস্টেমের কাঠামো, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করবে।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেমের ওপর একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনের জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে প্রস্তাবিত ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, বাস্তবায়ন পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ই-পার্লামেন্ট চালু হলে সংসদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে গতি ও দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকর হবে। সংসদীয় নথির ডিজিটাল সংরক্ষণে তথ্য ব্যবস্থাপনা হবে সহজ ও সুশৃঙ্খল। পাশাপাশি কাগজের ব্যবহার কমায় পরিবেশের ওপর চাপও কমবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অন্যান্য সহযোগিতা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), দাতা দেশ ও দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ে এসব সংস্থা ও অংশীদারের সহযোগিতা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ই-পার্লামেন্ট বাস্তবায়ন শুধু সংসদীয় নথি ডিজিটাল করার উদ্যোগ নয়; বরং এটি দেশের আইনসভাকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রচলিত কাগজনির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তে ধীরে ধীরে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামো গড়ে উঠবে।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

