ফরিদপুর শহরে যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে পৌরসভা। তিনটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণ, কার্পেটিং, ড্রেন, ফুটপাত ও ঢালাই সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। এসব কাজ সম্পন্ন হলে শহরের যানবাহন চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও যানজট অনেকাংশে কমবে বলে আশা করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। শহরে ইজিবাইক, অটোরিকশাসহ ছোট-বড় যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় প্রতিনিয়ত যানজটের কবলে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে সংকীর্ণ ও খানাখন্দে ভরা সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। কোথাও কোথাও দুটি যানবাহনের পাশাপাশি চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিক ভোগান্তি কমাতে সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে পৌরসভা। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, আরইউটিডিপি প্রকল্পের আওতায় ২০ কোটি ৩০ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৩ টাকা ব্যয়ে মোট ৪ দশমিক ০৮ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। এর মধ্যে রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ডিআইবি বটতলা হয়ে তেঁতুলতলা পর্যন্ত, ফরিদ শাহ রোড থেকে পৌরসভা পর্যন্ত এবং মাতৃমঙ্গল থেকে সহকারী পুলিশ সুপারের বাংলো পর্যন্ত সড়ক রয়েছে। এসব সড়কে কার্পেটিংয়ের পাশাপাশি ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ করা হচ্ছে। এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় ৮৮ লাখ ২১ হাজার ৪৯২ টাকা ব্যয়ে কয়েকটি সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে। এর মধ্যে চৌরঙ্গী মসজিদ থেকে আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় পর্যন্ত ২৪৩ মিটার কার্পেটিং সড়ক, বিল মামুদপুর নতুনডাঙ্গী থেকে সোনা মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ১ হাজার ৮৫ মিটার এইচবিবি সড়ক এবং মণ্ডলবাড়ী সড়ক লিংক রোডে ২০০ মিটার ইউনিব্লক সড়ক নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, আইইউআইডিপি প্রকল্পের আওতায় ৯৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৪ টাকা ব্যয়ে শুকপাক সড়কে ৪৭২ মিটার ইউনিব্লক সড়ক এবং তোতার মোড় থেকে মোসলেম খান ব্রিজ পর্যন্ত ২০০ মিটার ঢালাই সড়ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয় রিকশাচালক শরাফত আলী, পথচারী ইব্রাহিম মোল্লা ও আবির হোসেন জানান, সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংকীর্ণ ও খানাখন্দে ভরা থাকায় চলাচলে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতো। বিশেষ করে যানবাহন পারাপারের সময় প্রায়ই যানজট তৈরি হতো। কোথাও কোথাও দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকত। স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল শেখ, প্রাইভেটকারচালক আব্দুল আলী ও শওকত হোসেন বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের কাজ শেষ হলে যানবাহন চলাচল অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি নতুন ড্রেন নির্মাণের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকার সমস্যা কমবে। ফুটপাত নির্মিত হলে পথচারীরাও নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবেন। তাদের ভাষ্য, এসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকত। এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। চলমান উন্নয়নকাজ শেষ হলে দীর্ঘদিনের এ সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন। তবে উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পৌরবাসী। তাদের দাবি, নির্ধারিত নকশা ও দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে হবে। নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে নাগরিক দুর্ভোগ কমার পরিবর্তে নতুন করে ভোগান্তি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। এদিকে জেলার পুলিশ হাসপাতালের সামনের সড়ক প্রশস্ত করার সময় পুরোনো গাছ অক্ষত রাখায় পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি গাছ সংরক্ষণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান বলেন, নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে পৌরসভার প্রকৌশলীরা নিয়মিত তদারকি করছেন। তিনিও নিজে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ বুঝে নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, তিনটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে শহরের প্রধান সড়কগুলোর ওপর যানবাহনের চাপ কমবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


