ফরিদপুরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের চাকরিচ্যুত দুই সাবেক সদস্য রয়েছেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে ডাকাতি হওয়া ১৫০ সিসির একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ (বুধবার, ৪ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া করার কথা বলে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ছিনতাইয়ের একটি ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে চক্রটির সন্ধান পায় গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে চক্রের মূল হোতা সাবেক পুলিশ সদস্য মো. লিমন মিয়া (৩৪) এবং তাঁর সহযোগী মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকা (৩৬) গ্রেফতার হন। তাঁদের দুজনের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন পুলিশকে জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইজিবাইক চুরি ও ছিনতাই করে আসছিলেন। পরে এসব ইজিবাইক মুকসুদপুরের মন্টু মিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হতো বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন তিনি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, লিমনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদকসহ অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে। লিমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে ফরিদপুর শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখান থেকে সাবেক সেনা সদস্য মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীরকে (৫৫) গ্রেফতার করা হয়। তিনি খুলনা সদর এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে রঘুনন্দনপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। অভিযানে জাহাঙ্গীরের হেফাজত থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ডাকাতি হওয়া ১৫০ সিসির ইয়ামাহা মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, জাহাঙ্গীর ও তাঁর সহযোগীরা রূপগঞ্জে একটি বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে নগদ ২৪ লাখ টাকাসহ প্রায় ৬৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছিলেন। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ বিভিন্ন থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


