গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল।
সম্প্রতি সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির প্রভাব নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, মানুষের প্রয়োজন ও কল্যাণকে বিবেচনায় নিয়ে নেওয়া এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক। তাঁর মতে, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচি গ্রামীণ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সুবিধাভোগীদের তথ্যভিত্তিক তালিকা ও ডেটাবেজের আওতায় এনে সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে পারে। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগী চিহ্নিত করার পাশাপাশি সরকারি সহায়তার অপচয় কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। কৃষিখাতের উন্নয়নেও কৃষকদের জন্য পৃথক কার্ড চালুর উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত কৃষকদের রাষ্ট্রীয় সহায়তার আওতায় এনে কৃষি উৎপাদন ও প্রান্তিক কৃষকের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
এ ছাড়া মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগও সামাজিক ও ধর্মীয় পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টদের অনেকে এ ধরনের পদক্ষেপকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন। তবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও সঠিকভাবে সুবিধাভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় পর্যায়ে তালিকা প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম ঠেকাতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাবের মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি আনতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করছেন জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা। কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে কোনো সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটি দেখা দিলে তা চিহ্নিত করে সংশোধনের মাধ্যমে কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সংসদ সদস্য।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

