আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ফরিদপুরের ৭৬৫টি পূজামণ্ডপে শতভাগ সিসিটিভি ক্যামেরা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে জেলা পুলিশ। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে অচল ক্যামেরা সচল করা এবং যেসব মণ্ডপে ক্যামেরা নেই, সেখানে প্রয়োজন হলে ভাড়ায় হলেও সিসিটিভি স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ (বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় পূজাকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সাইবার নজরদারি ও গুজব প্রতিরোধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ফরিদপুরে পূজামণ্ডপ ছিল ৭৫৭টি। এবার তা বেড়ে হয়েছে ৭৬৫টি। এর মধ্যে কোতোয়ালী থানায় ১৯২টি, মধুখালীতে ১৫৯টি, বোয়ালমারীতে ১৩০টি, ভাঙ্গায় ৮৮টি, নগরকান্দায় ৬১টি, আলফাডাঙ্গায় ৪৩টি, সালথায় ৪৩টি, সদরপুরে ৩৫টি এবং চরভদ্রাসনে ১৪টি মণ্ডপ রয়েছে। বর্তমানে ৬৪৪টি মণ্ডপে সিসিটিভি থাকলেও সচল রয়েছে ৫০৪টির ক্যামেরা। অর্থাৎ ১৪০টি ক্যামেরা অচল। পাশাপাশি ১২১টি মণ্ডপে এখনও কোনো সিসিটিভি স্থাপন করা হয়নি।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী বলেন, মণ্ডপের নিরাপত্তা ও নজরদারিতে কোনো ধরনের শিথিলতা গ্রহণ করা হবে না। ১০ অক্টোবরের মধ্যে সব মণ্ডপে কার্যকর সিসিটিভি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে ভাড়া করে ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় আগামী ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে ছয়জন এবং অন্যান্য মণ্ডপে চারজন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর পাশাপাশি পূজাকালীন পুলিশের টহল জোরদার, বিসর্জন ঘাটে বিশেষ নিরাপত্তা, স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম মনিটরিং এবং শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বিঘ্ন পূজা উদযাপনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়েও সভায় আলোচনা করা হয়। পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার, উসকানিমূলক বক্তব্য বা বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হবে। এ জন্য সাইবার মনিটরিং টিম কাজ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ফ্যাক্ট চেক করা হবে। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। সভায় পূজাকালীন করণীয়, বর্জনীয় ও নিরাপত্তা নির্দেশনা গণমাধ্যমে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়।
এ সময় ফরিদপুর পুরাতন কালীবাড়ি থেকে চুরি যাওয়া ঐতিহাসিক কালীমূর্তি উদ্ধার ও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দরা।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মুক্ত আলোচনায় হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ওলামায়ে কেরামগণ বক্তব্য দেন।
বক্তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পূজা কমিটি ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

