জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ফরিদপুরের পদ্মা নদীবেষ্টিত তিন উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ৫ হাজার তালবীজ ও বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি শুরু করেছে ফরিদপুর জেলা পরিষদ। কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে ফরিদপুর পরিবেশ উন্নয়ন ফোরাম।
ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ (মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর শহরতলীর ভাজনডাঙ্গায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে ৫০০টি বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে ৩০০টি তালবীজ রোপণ করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বাকাহীদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল ও ফরিদপুর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. অদিতি হাসান।
স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পরিবেশ উন্নয়ন ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ফরিদপুর জেলা পরিষদ প্রাথমিকভাবে পদ্মা নদীবেষ্টিত তিন উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে ৫ হাজার তালবীজ ও বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ গাছের চারা বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, প্রতি বছর বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
চরাঞ্চলের মানুষও এ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করেন। তাই চরাঞ্চলে তালগাছের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি সবাইকে বেশি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যার আহ্বান জানান। পরে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ ফরিদপুর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে তালবীজ রোপণ করেন।

