ফরিদপুরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার অস্থায়ী দোকানপাট উচ্ছেদে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। আজ (মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হয়।
উচ্ছেদকৃত স্থানে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রশস্ত আরসিসি (রেইনফোর্সড সিমেন্ট কনক্রিট) সড়ক এবং আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন নালা (ড্রেন) নির্মাণ করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
জানা যায়, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রবেশপথ ও সামনের ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট এলাকা থেকে ভাঙ্গা রাস্তার মোড় ও মুন্সীবাজার পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কে দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে স্থায়ী ও অস্থায়ী নানা দোকানপাট এবং স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। এর ফলে ব্যস্ততম এই সড়কের জায়গা সংকুচিত হয়ে মারাত্মক যানজটের সৃষ্টি হতো। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী ও তাঁদের স্বজনদের হাসপাতালে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো।
মঙ্গলবার সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। ভারী যন্ত্রপাতি ও বুলডোজার দিয়ে একে একে সড়কের দু’পাশের অবৈধ পাকা-আধাপাকা দোকানপাট ও ভাসমান শেড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযানের সার্বিক বিষয় নিয়ে ফরিদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, “মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে ভাঙ্গা রাস্তার মোড় ও মুন্সীবাজার পর্যন্ত সড়ক বিভাগের আওতাধীন যেসব জমি দখল হয়েছিল, তা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এই ৪ কিলোমিটার সড়কে আমরা একটি টেকসই ও প্রশস্ত আরসিসি (রেইনফোর্সড সিমেন্ট কনক্রিট) রাস্তা এবং একটি বড় আকারের পয়ঃনিষ্কাশন নালা বা ড্রেন নির্মাণ করব। পর্যায়ক্রমে সওজ-এর আওতাধীন অন্যান্য দখলকৃত জমিও পুনরুদ্ধার করা হবে।”
অভিযানের নেতৃত্বদানকারী ফরিদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন, সড়ক বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ম্যাজিস্ট্রেটদের একটি বিশেষ প্যানেল গঠন করা হয়েছে; আজকের পর অন্য ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অশুভ প্রতিযোগিতা বা বাধা প্রদান ছাড়া ব্যবসায়ীরাও আমাদের সহযোগিতা করেছেন। উচ্ছেদ করা জায়গায় যাতে নতুন করে কেউ দখল নিতে না পারে, সেজন্য কঠোর নজরদারি থাকবে।”
অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব রহমান আকাশ, জেলা পুলিশ, র্যাব, আনসার বাহিনী ও সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন জানান, উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছিল। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন পর সওজ-এর সরকারি জায়গা পুনরুদ্ধার এবং হাসপাতাল সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দখলমুক্ত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ পথচারীরা।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনেরা জানান, হাসপাতালের সামনের রাস্তাটি অবৈধ দোকানপাটে অবরুদ্ধ থাকায় অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে দেরি হতো। সড়কটি এখন প্রশস্ত ও দখলমুক্ত হওয়ায় রোগীদের যাতায়াত সহজ ও দ্রুত হবে।


