প্রাচীন ও ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর ফরিদপুর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে পাঠানো এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে নেওয়া কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদনও জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ ফরিদপুর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি ফরিদপুরকে একটি প্রাচীন ও ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর হিসেবে উল্লেখ করেন।
আবেদনে বলা হয়, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ণ এবং নাগরিক সেবার চাহিদা বাড়ার ফলে বর্তমান পৌরসভা কাঠামোর মাধ্যমে আধুনিক নগরসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বৃহত্তর পরিসরে নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে পৌরসভাটিকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা প্রয়োজন। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর পৌরসভার আয়তন আগে ১৭ দশমিক ৩৮ বর্গকিলোমিটার থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৬৬ দশমিক ৫৪ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে ওয়ার্ডের সংখ্যা ৯ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৭টি। ফলে পৌরসভার পরিধি ও নাগরিকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সংসদ সদস্যের আবেদনে দাবি করা হয়, পৌরবাসী অনেক ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের সমপর্যায়ের কর ও বিভিন্ন ফি পরিশোধ করলেও এর বিপরীতে সিটি কর্পোরেশনের সমমানের উন্নত নাগরিক সেবা ও অবকাঠামোগত সুবিধা পাচ্ছেন না। তাই বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় সরকার কাঠামোর পরিবর্তন প্রয়োজন।
চৌধুরী নায়াব ইউসুফের মতে, ফরিদপুরকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হলে পরিকল্পিত নগরায়ণের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প-বাণিজ্যের প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশের পর এখন সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফরিদপুর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের দাবিটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


