চাঁদাবাজি, জুয়া ও মাদকের মতো সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি বলেছেন, এসব অপকর্মের সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত কিংবা পেছন থেকে পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
আজ (রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর) নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, চাঁদাবাজি, জুয়া ও মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি শ্রেণি ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। তাই অপরাধ দমনে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, অপরাধী যে পরিচয়েরই হোক না কেন, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে মাদক কারবার, জুয়া এবং চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা বা সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হবে না।
এর আগে বিভিন্ন বক্তব্যেও মাদক, চাঁদাবাজি ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন এমপি বাবুল। চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি বলেছিলেন, মাদক নির্মূল না হলে তরুণ প্রজন্ম ও সমাজকে রক্ষা করা কঠিন হবে। আগস্টেও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) সংসদীয় এলাকায় বিগত কিছু দিন ধরে মাদকের বিস্তার, অবৈধ জুয়ার আসর এবং ব্যবসায়ীদের ওপর অহেতুক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠছিল। এসব অপতৎপরতার হাত থেকে এলাকাকে মুক্ত রাখতে এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের কথা জানান সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বক্তব্যে এমপি বাবুলের কঠোর অবস্থানের ফলে চাঁদাবাজি, জুয়া ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
স্থানীয়দের মতে, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা এবং জুয়া ও চাঁদাবাজির বিস্তার ঠেকাতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধও জরুরি।

