যুক্তি, চিন্তা, সৃজনশীলতা ও বন্ধুত্বের দৃঢ় প্রত্যয়ে ফরিদপুরে পর্দা নেমেছে তিন দিনব্যাপী এফডিএফের চতুর্দশ জাতীয় বিতর্ক উৎসবের। আজ (শনিবার, ৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্থানীয় কবি জসীমউদ্দীন হলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই আয়োজন।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। সমাপনী অনুষ্ঠানের শুরুতে ফরিদপুর ডিবেট ফোরামের (এফডিএফ) দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘মহা কোলাহলে আরম্ভ হলো দিনের মহোৎসব’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি। পরে ফাইনাল বিতর্ক, পুরস্কার বিতরণী ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। সবশেষে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অকোটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান, ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এস এম আব্দুল হালিম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন, ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম স্ট্যালিন এবং ফরিদপুর জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রাব্বানী ভূইয়া রতন।
ফরিদপুর ডিবেট ফোরামের সভাপতি ফাহমিদা মফিজ সৃষ্টির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. খায়রুল আলম হিমালয়। এফডিএফ আয়োজিত এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিতার্কিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে উৎসব প্রাঙ্গণ। টুর্নামেন্টের মূল পর্ব অনুষ্ঠিত হয় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ডিগ্রি শাখায়।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এতে ফরিদপুরের ২৬টি স্কুল দল, ১২টি কলেজ দল এবং ওপেন বিভাগে ১৬টি দল অংশ নেয়। উৎসবের দ্বিতীয় দিনেও স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগীরা। এদিন ৩২টি স্কুল ও কলেজ দলের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিনিধিত্বকারী ১৬টি ওপেন এপি বিতর্ক দল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
যুক্তি, জ্ঞান, চিন্তা ও মননশীলতার চর্চায় মুখর ছিল পুরো আয়োজন। আয়োজকেরা জানান, এই উৎসব শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের মধ্যে যুক্তিনির্ভর চিন্তা, সৃজনশীলতা ও বন্ধুত্বের বন্ধন গড়ে তোলার একটি সম্মিলিত উদ্যোগ। দুই দশকের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য আরও সমৃদ্ধ বিতর্কচর্চার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই এবারের উৎসব আয়োজন করা হয়েছে।
পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের প্রতি এবারের উৎসব উৎসর্গের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সংযোগ আরও দৃঢ় করার প্রত্যাশা জানিয়েছে আয়োজক সংগঠন।
এর আগে সকালে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এমপি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ নদীবিধৌত চরাঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই বিকাশের লক্ষ্যে ফরিদপুরে সুফলভোগী খামারিদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ করেন।
ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বাছুর প্রাপ্ত উপকারভোগী খামারিরা উপস্থিত ছিলেন। বাছুর পেয়ে চরাঞ্চলের খামারিদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

