দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল। ফল প্রকাশের পর থেকেই ফরিদপুর জেলাজুড়ে বিভিন্ন কলেজ প্রাঙ্গণে নেমে আসে পরীক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা। কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে বাঁধভাঙা আনন্দে মেতে ওঠে কৃতকার্য শিক্ষার্থীরা।
তবে সামগ্রিক ফলাফলে বিগত বছরের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫-এর সংখ্যা কিছুটা কমে যাওয়ায় শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আজ (শনিবার, ৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক অনুষ্ঠানে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে প্রকাশিত হয়।
এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। তবে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে ছাত্রীদের পেছনে ফেলেছে ছাত্ররা। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন ছাত্র। তাদের মধ্যে পাস করেছে ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে, পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে ছাত্রদের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা।
এদিকে জিপিএ-৫ অর্জনের চিত্রে দেখা গেছে ভিন্নতা। এ বছর ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিপরীতে জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৭২১ জন। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ফল অর্জনে ছাত্ররা ছাত্রীদের চেয়ে ৬৪২ জন এগিয়ে রয়েছে।
এ ছাড়া চলতি বছর ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬১.৮৩ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৪৪.৮৪ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৪৫.৯৮ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৪৮.০৪ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫২.০৭ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৪৫.০৬ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫০.৯০ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৪৪.৯২ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫১.৪৪ শতাংশ, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৬১.০৭ শতাংশ এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৪৯.৪৩ শতাংশ।
আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজ, ইয়াছিন কলেজসহ জেলার নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উল্লাসে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। মিষ্টি বিতরণ ও বাঁধভাঙা নাচ-গানে মেতে ওঠে তরুণ-তরুণীরা। জিপিএ-৫ পাওয়া সফল পরীক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ফরিদপুর জেলার চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, জেলা পর্যায়ে পাসের হারে ও মেধা তালিকায় বিগত বছরের মতো এবারও মেয়েরা তুলনামূলক ভালো ফল প্রদর্শন করেছে। জেলার শীর্ষস্থানীয় কলেজগুলোতে পাশের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার সন্তোষজনক ধারা বজায় থাকলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু কলেজে ফলাফলের নিম্নগতি লক্ষ্য করা গেছে।
ফরিদপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের বেশ কয়েকজন কৃতকার্য শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষকদের সঠিক নির্দেশনার ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তবে এই আনন্দের মাঝেও অনেক সহপাঠীর আশানুরূপ ফল না হওয়া কিছুটা কষ্ট দিচ্ছে।”
ফরিদপুরের একাধিক কলেজ অধ্যক্ষ ও শিক্ষাবিদের মতে, প্রশ্নপত্রের মান নিয়ন্ত্রণ, উত্তরপত্র মূল্যায়নে কঠোরতা এবং পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ সংক্রান্ত কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণেই এবার জেলাভিত্তিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। ফলাফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পুনঃনিরীক্ষণের (বোর্ড চ্যালেঞ্জ) সুযোগ চালু রয়েছে। বর্তমানে বাঁধভাঙা উল্লাসের পাশাপাশি সফল শিক্ষার্থীরা এবার উচ্চশিক্ষার দৌড়ে এগিয়ে যেতে ও দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির প্রস্তুতি গ্রহণে মনোনিবেশ করছে।

