কে কোন দল করেন বা কাকে ভোট দিয়েছেন—তা নিয়ে কোনো ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি করবেন না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল। তিনি বলেছেন, “আমি কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না, করতে আসিও নাই। নির্বাচনে কে ভোট দিয়েছেন আর কে দিতে পারেননি—তা বিবেচনা না করে আমি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। আমি সকলের সংসদ সদস্য।”
আজ (মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টম্বর) নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে ও সম্প্রতি স্থানীয় জনগণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সমাবেশের বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী করায় এলাকার সকল ভোটারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের ভিত্তিতে জনগণের মধ্যে কোনো বৈষম্য করা হবে না উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “কে বিএনপি, কে আওয়ামী লীগ আর কে কোন দল করে—এই ভেদাভেদ ভুলে আমি দলমত নির্বিশেষে সকলের এমপি হিসেবে কাজ করে যাবো। প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই আমার মূল লক্ষ্য।”
বক্তব্যে এলাকা থেকে রাজনৈতিক হানাহানি ও হয়রানির সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এক ভাইয়ের বিরুদ্ধে অন্য ভাইকে খেপিয়ে দেওয়া কিংবা রাতের আঁধারে কাউকে ধরে নিয়ে হয়রানি ও নির্যাতন চালানোর মতো ঘটনা কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে মিথ্যা বা সাজানো মামলা দিয়ে কাউকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করা থেকে বিরত থাকার জন্য স্থানীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনের প্রতি কঠোর আহ্বান জানান তিনি। এলাকায় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়ে সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রত্যেকেরই তাঁর পছন্দের রাজনৈতিক দল বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।
ধর্মীয় বা দলীয় পরিচয়ের কারণে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় একজন মানুষও যাতে বৈষম্য বা নির্যাতনের শিকার না হন—সে বিষয়ে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করেন।
বক্তব্যের শেষাংশে নিজের স্পষ্ট অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “যার যে দল ভালো লাগবে, সে নিঃসংকোচে সেই দল করবে। রাজনৈতিক কারণে বা ধর্মের কারণে এই অঞ্চলে কাউকে বিন্দুমাত্র নির্যাতিত হতে দেওয়া হবে না।”

