স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয় জেনে যাওয়া এবং মাদক কারবারিদের তথ্য পুলিশকে দেওয়ার জেরে ফরিদপুরে হাসান শেখ (৩৫) নামে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে তাঁর স্ত্রীসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।এছাড়া নিহত যুবকের লাশ গুম করার অপরাধে আসামিদের সবাইকে পৃথকভাবে আরও সাত বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আজ (বুধবার,১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—নিহত হাসানের স্ত্রী ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর গ্রামের ফরিদা বেগম (৩৮), একই গ্রামের শাহজাহান মাতুব্বর (৪৪), ফারুক বিশ্বাস (৪৩) ও চান্দু শেখ (৩০)। রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত তিন আসামিকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়। তবে প্রধান আসামি ফরিদা বেগম বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৯ মে রাতে আসামি শাহজাহান মাতুব্বরের ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন ফরিদপুর শিশুপার্কে অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত হাসান শেখ। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। চার দিন পর ১৩ মে ঝাউখোলা এলাকার একটি আখখেত থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় তাঁর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিরাজুর রহমান চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে বিয়ে হলেও স্ত্রী ফরিদা বেগমের অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে কোন্দল তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন হাসান। অন্যদিকে, স্থানীয় মাদক কারবারি শাহজাহানদের তথ্য পুলিশকে জানিয়ে দেন হাসান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রী ফরিদা ও মাদক কারবারিরা যোগসাজশ করে হাসানকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ আখখেতে বস্তাবন্দী করে ফেলে রাখে।
রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে বিশেষ জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস এম আজিজুর রহমান বিকু বলেন, “পারিবারিক কলহ ও মাদক কারবারিদের যৌথ আক্রোশের কারণে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই যুক্তিসঙ্গত রায় দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আসামিদের উভয় সাজা একই সঙ্গে চলবে এবং তাঁদের পূর্বের হাজতবাসের সময়সূচি মোট কারাদণ্ড থেকে বাদ দেওয়া হবে।”


