ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল জানিয়েছেন, চরভদ্রাসন উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের বহুল প্রতীক্ষিত গোপালপুর-মৈনট ফেরিঘাট বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে খুব শিগগিরই এর মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
আজ (বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর) নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় এমপি শহিদুল ইসলাম খান বাবুল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ, চরভদ্রাসনবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত গোপালপুর-মৈনট ফেরিঘাটের কাজের জন্য বরাদ্দ হয়েছে এবং অতি দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে।” দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদী পারাপারের জন্য গোপালপুর ও মৈনট ঘাটের মধ্যে সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নদীপথে যোগাযোগের এই অবকাঠামোটি নির্মিত হলে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক দূরত্ব এবং যাতায়াত সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। সংসদ সদস্যের এই ঘোষণার পর এলাকাটিতে বইছে আনন্দ ও স্বস্তির বাতাস।
সংসদ সদস্যের এই ঘোষণার পর থেকেই পুরো উপজেলা জুড়ে বইছে আনন্দ ও স্বস্তির হাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে পদ্মানদী পারাপারের জন্য গোপালপুর ও মৈনট ঘাটের মধ্যে সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই নদীপথের অবকাঠামোটি নির্মিত হলে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক দূরত্ব ও যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
ফেরিঘাট চালুর খবরে উল্লাস প্রকাশ করে গোপালপুর এলাকার স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আলহাজ্ব করিম শেখ বলেন, “পদ্মা পার হয়ে ঢাকায় যেতে আমাদের যে কষ্ট আর সময় লাগত, তা বলে বোঝানো যাবে না। বিশেষ করে রাতে কোনো মুমূর্ষু রোগী ঢাকায় নিতে হলে আতঙ্কে থাকতে হতো। এই ফেরিঘাটটি হলে আমাদের বছরের পর বছরের ভোগান্তির অবসান হবে।”
চরভদ্রাসন বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা পদ্মাপাড়ের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়তাম শাকসবজি ও কৃষিপণ্য ঢাকায় পাঠাতে গিয়ে। ট্রলার বা নৌকায় মালামাল পার করতে গিয়ে অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে যেত। ফেরি চালু হলে আমরা সকালে ক্ষেত থেকে সবজি তুলে দুপুরে ঢাকার বাজারে বিক্রি করতে পারব। এতে আমাদের আয় বহুগুণ বাড়বে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা জানান, গোপালপুর-মৈনট ফেরিঘাট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই প্রান্তিক জনপদের সঙ্গে রাজধানীর যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সুসংহত হওয়ায় সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

