ফরিদপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি ঘটে চলেছে। জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সেকেন্দার মল্লিক (৫৫) নামে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আজ (বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেকেন্দার মল্লিক মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার বাসিন্দা। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর তিনি ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর ফরিদপুরে এ পর্যন্ত মোট ৩৪৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৮২ জন সুস্থ হয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ৬০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিস্থিতি সম্পর্কে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান দৈনিক নাগরিক বার্তাকে জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সার্বিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করা, মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার বা মশা প্রতিরোধী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়ে জানান, ডেঙ্গুর যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না; দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। তীব্র জ্বর হলে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা চালানোর আহ্বান জানান তারা।
এদিকে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম দৈনিক নাগরিক বার্তাকে জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে জেলাজুড়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভা যৌথভাবে সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করেছে।

