ফরিদপুর শহরের একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকা আমিন খান নামের এক যুবককে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতর চিহ্ন থাকায় নিরাময় কেন্দ্রটির বিরুদ্ধে নির্যাতন করে হত্যা করার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনরা। এঘটনায় নিহতের ভাই বাদি হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এদিকে ঘটনার পর নিরাময় কেন্দ্রে থাকা রোগীরা উত্তেজিত হয়ে কাচের দেয়াল ও লোহার গেটের তালা ভেঙ্গে ২৮ জন রোগী বের হয়ে যায়। পুলিশ বলছে, অভিযোগ সাপেক্ষে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
দীর্ঘ ১২ বছর মালয়েশিয়া প্রবাসী থাকার পর পাঁচ বছর আগে দেশে ফেরেন যুবক আমিন খান। দেশে এসে প্রিন্টিং প্রেসের ব্যবসা শুরু করেন। কিছুদিন যাবৎ স্থানীয় মাদকসেবীদের সংস্পর্শে হঠাৎ করেই মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন তিনি। মাদকাসক্ত থেকে সুস্থ্য জীবনে ফেরাতে মাত্র ১৫ দিন আগে স্বজনেরা তাকে ভর্তি করেন ফরিদপুর শহরের ‘আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে’। কিন্তু সুস্থ হয়ে ফেরা হলো না ঘরে, চিকিৎসা নিতে এসে না ফেরার দেশে চলে যেতে হলো যুবক আমিনকে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে আমিনের মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানায় ‘আল-কারীম মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র’ কর্তৃপক্ষ। পরে স্বজনেরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তার মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আমিনের হাত ও পায়ে বাঁধার দাগ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। এঘটনায় সোমবার দুপুরে নিহতের ভাই রবিউল বাদি হয়ে কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। নির্যাতন করেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ, বিচার দাবী স্বজনদের।
এদিকে ঘটনার পর নিরাময় কেন্দ্রে থাকা রোগীরা উত্তেজিত হয়ে কাচের দেয়াল ও লোহার গেটের তালা ভেঙ্গে ২৮ জন রোগী বের হয়ে যায়। এ বিষয়ে কথা বলতে আল-কারীম মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে গেলে ক্যামেরার সামনে কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে তারা জানান, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আমিন। প্রাথমিকভাবে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল হাসান জানান, রাতে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়। সোমবার দুপুরে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারন যানা যাবে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহত আমিন খান ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ছোলনা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।


