সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বদলিতে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। একবার বদলি হওয়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হলে কোনো শিক্ষককে পুনরায় বদলির জন্য বিবেচনা করা হবে না। একই সঙ্গে চাকরির দুই বছর পূর্ণ না হলেও বদলির আবেদন করার সুযোগ থাকছে না।
সিলেট বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত এক নোটিশে এসব শর্ত জানানো হয়েছে। বুধবার (২৫ আগস্ট) সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে নোটিশটি জারি করা হয়।
নোটিশ অনুযায়ী, চাকরির মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ না হলে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে বদলির জন্য বিবেচনা করা হবে না। আবার একবার বদলির পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে তাকে পুনরায় বদলির জন্য বিবেচনা করা যাবে না।
এছাড়া বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শূন্য পদকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শূন্য পদের বিপরীতেই শিক্ষক বদলি করা যাবে। ফলে কোনো বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শূন্য পদ না থাকলে সেখানে বদলির সুযোগ থাকবে না।
শিক্ষক সংকট রয়েছে এমন বিদ্যালয় থেকেও বদলি সীমিত করা হয়েছে। যেসব বিদ্যালয়ে পাঁচজন বা তার কমসংখ্যক শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন অথবা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:৪০-এর বেশি, সেসব বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক বদলি করা যাবে না।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষকের আবেদন ছাড়া তাকে নিজ বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা যাবে না। তবে একই বিদ্যালয় থেকে একাধিক শিক্ষক বদলির আবেদন করলে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা অগ্রাধিকার পাবেন।
বদলির ক্ষেত্রে নারী শিক্ষকদের জন্যও অগ্রাধিকারের বিষয়টি রাখা হয়েছে। সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তারা তাদের স্থায়ী ঠিকানা অথবা স্বামীর স্থায়ী ঠিকানার নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
আবেদন যাচাইয়ে যেসব বিষয় দেখা হবে সিলেট বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের নোটিশে বলা হয়েছে, অন্তঃবিভাগীয় বদলির আবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তি করা হবে। আবেদনকারীদের তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কমিটির নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া আন্তঃবিভাগীয় বদলির আবেদনকারীদের আবেদনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সর্বশেষ বদলি নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে মহাপরিচালকের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।
নতুন শর্তের ফলে একদিকে বদলির সুযোগের ক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদ ও আগের বদলির সময়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষক সংকটে থাকা বিদ্যালয়গুলোতে জনবল ধরে রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


