ফরিদপুর সদর উপজেলায় এক যুবকের হাত-পা বেঁধে দুই চোখ উপড়ে ফেলার মতো এক নৃশংস ও বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে। তবে পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। রোববার রাতে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বাইটকুমারী বিলের পাশে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে গুরুতর আহত ওই যুবক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। আহত যুবকের নাম দেলোয়ার হোসেন (৩৫)। তিনি কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের মাধবপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে কোনো এক সময় একদল দুর্বৃত্ত দেলোয়ারকে ধরে বাইটকুমারী বিলের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তার দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয় এবং তাকে মৃত ভেবে বিলের পাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরদিন সোমবার সকালে স্থানীয় লোকজন বিলের পাশের একটি ধানখেতে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় দেলোয়ারকে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ বিষয়ে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম বাদশা মিয়া জানান, সকালে ঘটনা শোনার পর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। তার আগেই পরিবারের সদস্যরা আহত দেলোয়ারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি আরও জানান, আহত দেলোয়ার চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তবে কারা এবং কী কারণে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মামুনুর রশিদ জানান, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। এ ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত তা উদঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


