Wednesday, 2 September 2026
  • Home  
  • ‘মা, এখন ঘুমাবো’ সেই ঘুমই হলো শেষ ঘুম
- রাজশাহী বিভাগ

‘মা, এখন ঘুমাবো’ সেই ঘুমই হলো শেষ ঘুম

বাবা-মায়ের জন্য একটি সুন্দর বাড়ি বানাবেন এটাই ছিল প্রবাসী রবিউল ইসলাম হৃদয়ের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। পরিবারের অভাব ঘোচাতে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করে প্রায় পাঁচ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের এই তরুণ। কিন্তু স্বপ্নের সেই বাড়ি আর করা হলো না তার। প্রবাস থেকে ফিরতে হলো কাফনে মোড়ানো নিথর দেহ […]

বাবা-মায়ের জন্য একটি সুন্দর বাড়ি বানাবেন এটাই ছিল প্রবাসী রবিউল ইসলাম হৃদয়ের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। পরিবারের অভাব ঘোচাতে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করে প্রায় পাঁচ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের এই তরুণ। কিন্তু স্বপ্নের সেই বাড়ি আর করা হলো না তার। প্রবাস থেকে ফিরতে হলো কাফনে মোড়ানো নিথর দেহ হয়ে।

রবিউলের স্বজনরা জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার পর প্রায় সাড়ে তিন বছর বৈধ কাগজপত্রের জটিলতায় তেমন কোনো কাজ করতে পারেননি তিনি। পরে কাজ পেলেও ধীরে ধীরে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে থাকেন। নিজের ভবিষ্যতের চেয়ে পরিবারের স্বচ্ছলতাকেই বেশি গুরুত্ব দিতেন রবিউল। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ছয় মাস আগে ছোট ভাইকেও সৌদি আরবে নিয়ে যান তিনি।

এরই মধ্যে গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা যান রবিউল ইসলাম হৃদয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে তার মরদেহ পৌঁছায় নিজ গ্রাম মহিষডাঙ্গায়। সকাল ১০টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

রবিউলের মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছেলের মরদেহ দেখে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন মা আঞ্জুয়ারা বেগম। মৃত্যুর আগে মায়ের সঙ্গে শেষ কথোপকথনে রবিউল বলেছিলেন, ‘মা, এখন ঘুমাবো, পরে কথা বলব।’সেই ঘুম যে তার জীবনের শেষ ঘুম হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি মা।

স্বজনরা জানান, পরিবারের অভাব দূর করে বাবা-মায়ের জন্য একটি সুন্দর বাড়ি নির্মাণের স্বপ্ন দেখতেন রবিউল। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে সেই স্বপ্ন পূরণের পথেই এগোচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় তার জীবন, ভেঙে যায় পরিবারের সব স্বপ্ন।

একদিকে সন্তান হারানোর শোক, অন্যদিকে রবিউলের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা দুই দিক থেকেই অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারটি। স্বজনরা রবিউলের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, রবিউলের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাবা-মায়ের জন্য যে বাড়িটি নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন রবিউল, সেটি আর তার হাতে গড়ে ওঠেনি। স্বপ্নের বাড়ির বদলে শেষ পর্যন্ত প্রবাস থেকে ফিরলেন তিনি- কাফনে মোড়ানো নিথর দেহ হয়ে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পাদক ও প্রকাশক :

নির্বাহী সম্পাদক :

যোগাযোগ :

Email Us:nagorikbarta2026@gmail.com

হটলাইন :017xxxxxxxxxxx