বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরেরর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিএনপির প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হবেন। এখন বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল এই মনোনয়ন জমা দেয়।
মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬-এর নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
‘ঘোষণা ও বিবৃতিসহ’ মনোনীত প্রার্থীর স্বাক্ষর, প্রস্তাবক ও সমর্থকের নাম, ঠিকানা, স্বাক্ষর সংবলিত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় বিএনপি চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত হয়। পরে মির্জা ফখরুলের হাতে দলের মনোনয়ন তুলে দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এরপর দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনি কর্তার কার্যালয় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আব্দুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, হাবিবুন নবী খান সোহেলসহ প্রতিনিধি দল।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সিইসির সঙ্গে ইসি সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু , মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ. বি. এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)।
প্রস্তাবক ও সমর্থক কে
রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে একটি আবেদন আজ দুপুরে জমা দেওয়া হয়।
মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারীর নাম দেওয়া আছে নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
সমর্থক হলেন ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬ এর তফসিল
বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন।
সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন ৬ অগাস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ২০২৬ এর তফসিল ঘোষণা করেন।
মনোনয়নপত্র দাখিল: ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা (নির্বাচনি কর্তার অফিস কক্ষ)।
মনোনয়নপত্র পরীক্ষা: ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বাছাই পযন্ত (নির্বাচনি কর্তার অফিস কক্ষ)।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়: ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত (নির্বাচনি কর্তার অফিস কক্ষ)।
ভোট: ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষ)
ভোটাভুটি ফের
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাতে ‘নির্বাচনি কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে।
মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাইয়ের স্থান হবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়। আর ভোটের প্রয়োজন হলে তা হবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে।
বাছাইয়ে বৈধ প্রার্থী একজন হলে নির্বাচন কমিশন তাকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করবে। তবে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে তাদের মধ্যে ভোট হবে।
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
৩৫ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোট হচ্ছে এবার।
বিএনপির প্রার্থীর পাশাপাশি বিরোধী দল জামায়াত জোটেরও প্রার্থী রয়েছে অলি আহমদ।
এবার ভোটার ৩৪৯ জন
রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে ভোটের প্রস্তুতিমূলক সভাও হয়েছে। নির্বাচনি কর্তা ২০ আগস্ট সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দুপুর ২টায় সংসদ সদস্যের বৈঠক ডেকেছেন।
সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এবার ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন।
এরমধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ্য সদস্য ২৪৭ জন; জামায়াতের ৭৭ জন।
এছাড়া স্বতন্ত্র ৮ জন, এনসিপির ৮ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ৩ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১ জন, বিজেপির ১ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, গণপরিষদের ১ জন, খেলাফত মজলিশের ১ জন এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন সংসদে।
সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে এমপিরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। কেউ দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে।
চিফ হুইপ বলেন, ‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, সুতরাং এটা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার্যকর হবে।’


