শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ফরিদপুরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। এ বছর জেলার ৭৮১টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজা উপলক্ষে প্রতিটি পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা, পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সর্বস্তরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ (রোববার, ৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাজহারুল ইসলাম।
সভায় জেলা প্রশাসক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্দেশ দেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপগুলো বিশেষভাবে চিহ্নিত করে সেখানে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং, মাদক গ্রহণ এবং নারী ও শিশু হয়রানিসহ যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ও সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। উৎসবের ধর্মীয় গাম্ভীর্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে সভায় জানানো হয়, পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় কোনোভাবেই মাদকের ব্যবহার সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে ডিজে গান সম্পূর্ণ পরিহার করে কেবল ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী গান পরিবেশনের আহ্বান জানানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন বক্তারা। পূজা চলাকালে শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে অবৈধ মোটরসাইকেল প্রবেশ বন্ধে ট্রাফিক পুলিশকে কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া মণ্ডপ এলাকায় সুপেয় পানি, স্বাস্থ্যসেবা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ ও জেনারেটর ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার তাগিদ দেওয়া হয়। প্রতিমা বিসর্জনের সময় নদী ও জলাশয়গুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখার বিষয়েও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি, রাজনৈতিক দল ও সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতায় ফরিদপুরে এবারও অত্যন্ত নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহিদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি, ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এম এ হালিম, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল এবং জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার সাহাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ।


