নিজেকে ভিন্ন লুককে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে দেখা যায় মেহজাবীন চৌধুরীকে। পোশাক, গয়না কিংবা মেকআপে তার বেছে নেওয়া ভিন্নধর্মী স্টাইল সহজেই নজর কাড়ে। এবার কালো শাড়ি, রুপালি গয়না আর মায়াবী মেকআপে অভিনেত্রী ধরা দিলেন একেবারেই অন্যরকম অবতারে। পরিচিত গ্ল্যামারাস লুকের বদলে এই সাজে ফুটে উঠেছে নরম, অভিজাত ও একেবারে বাঙালি নারীর সৌন্দর্য।
মেহজাবীনকে দেখা গেছে কালো রঙের ফ্লোরাল শাড়িতে। শাড়ির পুরো জমিনজুড়ে রয়েছে কালোর ওপর কালো টোন-অন-টোন নকশা। একই রঙের ভিন্ন টেক্সচার ও নকশা শাড়িটিকে দিয়েছে পরিমিত অথচ আকর্ষণীয় একটি লুক। অতিরিক্ত ঝলমলে কোনো কাজ না থাকায় পোশাকটিতে বরং ফুটে উঠেছে রুচিশীলতার ছাপ।
শাড়ির সঙ্গে অভিনেত্রী বেছে নিয়েছেন কালো ব্লাউজ। সুইটহার্ট নেকলাইনের ব্লাউজটি শাড়ির গাঢ় রঙের সঙ্গে সুন্দরভাবে মিশে গিয়ে পুরো সাজে এনেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। কালো রঙের এই মনোক্রোম সাজ মেহজাবীনের সৌন্দর্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
এই লুকের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গয়না। কালো শাড়ির সঙ্গে কনট্রাস্ট তৈরি করতে মেহজাবীন বেছে নিয়েছেন সিলভার টোনের অলংকার। গলায় রয়েছে নজরকাড়া একটি চোকার। এর সঙ্গে মিলিয়ে কানে পরেছেন দুল। হাতে রয়েছে একাধিক সিলভার চুড়ি, যা শাড়ির দেশি আবহকে আরও জোরালো করেছে।
আঙুলেও দেখা গেছে আংটি। তবে সব গয়নার মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে নাকফুল। ছোট্ট এই অলংকারটি পুরো সাজে যোগ করেছে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি নারীর আবহ। অভিনেত্রীর সাজে নাকফুলের ব্যবহার খুব বেশি ভারী না হয়েও মুখের সৌন্দর্যকে আলাদা করে ফুটিয়ে তুলেছে।
মেহজাবীনের মেকআপেও ছিল সাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য। গ্ল্যামারাস মেকআপের বদলে এখানে প্রাধান্য পেয়েছে নরম ও স্বাভাবিক সৌন্দর্য। গালে রয়েছে হালকা গোলাপি ব্লাশ, যা মুখে সতেজতা এনেছে। ঠোঁটে ব্যবহার করা হয়েছে গ্লসি লিপ কালার। ফলে পুরো মেকআপে এসেছে কোমল ও উজ্জ্বল ফিনিশ।
তবে চোখের সাজেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাঢ় কাজলে চোখকে আরও স্পষ্ট করে তোলা হয়েছে। কাজলকালো চোখের সঙ্গে ছোট কালো টিপ ও নাকফুলের সমন্বয় মেহজাবীনের লুকে এনে দিয়েছে এক ধরনের পুরোনো দিনের বাঙালি সৌন্দর্যের আবহ। চোখের এই সাজ পুরো লুকের মায়াবী দিকটিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শুধু পোশাক ও মেকআপ নয়, চুলের ক্ষেত্রেও ছিল বিশেষ যত্ন। ছবিগুলো প্রকাশের সঙ্গে মেহজাবীন জানিয়েছেন, চুলের যত্নে তিনি হেয়ার বোটক্স করিয়েছেন। এরপর লম্বা চুলকে মাঝখান থেকে সিঁথি করে খোলা রেখেছেন।
চুলের মসৃণতা ও পরিপাটি ফিনিশ পুরো সাজের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানিয়ে গেছে। খোলা চুলের সঙ্গে শাড়ি ও ঐতিহ্যবাহী গয়নার সমন্বয়ে লুকে এসেছে একদিকে আধুনিকতা, অন্যদিকে বাঙালি নারীর চিরচেনা সৌন্দর্য।
মেহজাবীনের ফ্যাশন স্টাইলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি একই ধরনের সাজে নিজেকে আটকে রাখেন না। কখনো পশ্চিমা পোশাকে আধুনিক ও সাহসী অবতার, কখনো আবার শাড়ি ও ঐতিহ্যবাহী গয়নায় একেবারে দেশি সাজ-দুই ধরনের লুকেই তাকে বেশ ভালো লেগেছে।
তবে কালো শাড়ির এই সাজে মেহজাবীনের উপস্থিতিতে ছিল আলাদা এক কোমলতা। কালোর গাম্ভীর্য, রুপালি গয়নার ঝিলিক, নাকফুলের ঐতিহ্য, কাজলকালো চোখ এবং খোলা চুলে সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ভারসাম্যপূর্ণ একটি লুক।
এই সাজে মেহজাবীনকে চেনা গ্ল্যামারাস অবয়বের চেয়ে কিছুটা আলাদা মনে হয়েছে। এখানে জাঁকজমকের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ব্যক্তিত্ব, রুচি ও বাঙালি নারীর সহজাত সৌন্দর্য। কালো শাড়ির গাঢ় আবহের মধ্যেও তার সাজ তাই হয়ে উঠেছে কোমল, মায়াবী এবং নজরকাড়া।


