Wednesday, 2 September 2026
  • Home  
  • চাকরি খোঁজার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে
- ফিচার ও জবস

চাকরি খোঁজার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

যে জাতি ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে বিপর্যয় থেকে শক্তি খুঁজে নিতে জানে, আজ সেই জাতি দাঁড়িয়ে আছে আরেকটি কঠিন পরীক্ষার সামনে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন আর ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা মিলিয়ে আজ প্রায় সবার মনেই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, আগামীর দিনগুলো আসলে কেমন হবে? বেকারত্বের হার বছরের পর বছর ধরে বেড়েই চলেছে। অনিয়ম অব্যবস্থাপনা থামছে না। এই বাস্তবতার […]

যে জাতি ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে বিপর্যয় থেকে শক্তি খুঁজে নিতে জানে, আজ সেই জাতি দাঁড়িয়ে আছে আরেকটি কঠিন পরীক্ষার সামনে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন আর ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা মিলিয়ে আজ প্রায় সবার মনেই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, আগামীর দিনগুলো আসলে কেমন হবে?

বেকারত্বের হার বছরের পর বছর ধরে বেড়েই চলেছে। অনিয়ম অব্যবস্থাপনা থামছে না। এই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ ক্রমশ হতাশায় ভেঙে পড়ছে। নিজের দেশের ভবিষ্যতের ওপর আস্থা রাখা তাদের কাছে এখন কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বাংলাদেশের ইতিহাস গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়, এ দেশে যখনই বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে; সেখান থেকেই এসেছে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।

এর প্রথম বাস্তব প্রমাণ মেলে ভাষা আন্দোলনে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যখন বাঙালির মাতৃভাষার ওপর আঘাত হেনেছিল; তখন বাঙালি জেগে উঠেছিল। বাংলাকে মাতৃভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সেই লড়াই এতটাই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল যে, ইউনেস্কো পরবর্তীতে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

এরপর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং সবশেষে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান; প্রতিটি ক্ষেত্রেই একই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এ দেশের মানুষের সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তি নতুন পথ তৈরি করে। কিন্তু আমাদের কেবল অতীতের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে চলবে না। আগামীর অনিশ্চয়তা এড়াতে এখন থেকেই দৃঢ় পরিকল্পনায় হাত দিতে হবে।

দেশের তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ আজ কর্মহীন। সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে তরুণরাই হয়ে উঠতে পারে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। এর জন্য প্রথমেই দরকার শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার। কারণ বিদ্যমান শিক্ষাক্রম এখনো অনেকাংশে মুখস্থবিদ্যানির্ভর পুরোনো কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত দক্ষতার বদলে কেবল একটি সনদ হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসছে।

এই দুর্বল ভিত্তির প্রভাব পড়ছে উচ্চশিক্ষাতেও। যেখানে দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে জায়গা করে নিতে পারছে না। ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বড় অংশ আজ বিদেশমুখী হচ্ছে। সেখানেই গড়ে তুলছে নিজেদের ক্যারিয়ার। এভাবে দেশের মেধা বাইরে পাড়ি জমালে তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে গোটা জাতির উন্নয়নের ওপরই পড়ে।

এই প্রবণতা ঠেকাতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার সুযোগ বাড়ানো এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও উপযুক্ত বেতন কাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। না হলে যত ভালো শিক্ষার্থীই তৈরি হোক না কেন, দেশ তাদের ধরে রাখতে পারবে না। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের হারানো আস্থা ফেরাতে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে যে কোনো সংস্কার উদ্যোগই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের নিজস্ব মানসিকতায়ও পরিবর্তন আনা দরকার। চাকরি খোঁজার প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাদের মধ্যে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস তৈরি করতে হবে। উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা, ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইনভিত্তিক ব্যবসার প্রতি আগ্রহ এখন থেকেই লালন করা দরকার। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে। তাহলে আজকের বেকারত্বই একসময় জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।

শুধু সরকার বা রাষ্ট্রের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে চলবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি স্তরকে এই পরিবর্তনের অংশীদার হতে হবে। একজন তরুণ যখন দেখবেন তার প্রচেষ্টার যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে; তখনই তিনি হতাশা ছেড়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাবেন। এই সাহস আর ইচ্ছাশক্তি নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। তবেই আগামী দিনগুলো সত্যিকার অর্থে সম্ভাবনার হয়ে উঠবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সম্পাদক ও প্রকাশক :

নির্বাহী সম্পাদক :

যোগাযোগ :

Email Us:nagorikbarta2026@gmail.com

হটলাইন :017xxxxxxxxxxx