দুস্থ সাংবাদিকের অনুদান পেলেন জামায়াত নেতা, হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীও

দুস্থ সাংবাদিকের অনুদান পেলেন জামায়াত নেতা, হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীও

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে দুস্থ সাংবাদিকের জন্য দেওয়া অনুদানের চেক জামায়াত নেতার প্রাপ্তি নিয়ে চলছে সমালোচনা। সাংবাদিক পরিচয়ধারী ওই জামায়াত নেতা হচ্ছেন সাদাত উল্লাহ। তিনি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চিহ্নিত জামায়াতের শিবির ক্যাডার চরম্বা ইউনিয়নে জামায়াত থেকে নির্বাচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। এ তথ্য জানিয়ে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাদেক হোসেন চৌধুরী শুক্রবার গণমাধ্যমেকর কাছে বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, দুস্থ সাংবাদিকতার পরিচয়ের আড়ালে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চিহ্নিত জামায়াতের শিবির ক্যাডার চরম্বা ইউনিয়নে জামায়াত থেকে নির্বাচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাদাত উল্লাহ গণভবনে প্রবেশ এবং খোদ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে অনুদান গ্রহণের মতো সুযোগ পাওয়ার ঘটনায় আমরা বিস্মিত ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এর আগেও প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত সাদাত উল্লাহ তার জামায়াতের পরিচয় গোপন রেখে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রধানমন্ত্রীর বহরে সফরসঙ্গী হয়ে বিদেশ ঘুরে এসে আলোচনার জন্ম দেন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, চিহ্নিত এ জামায়াত নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কীভাবে একজন দুস্থ সাংবাদিক হিসেবে অনুদানের তালিকায় স্থান পেয়েছে আর এর সুবাধে গণভবনে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে অনুদান গ্রহণের সুযোগ পেল? কে বা কারা এ ঘটনায় জড়িত তা তদন্ত পূর্বক চিহ্নিত ও দোষীদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের তহবিল থেকে অনুদান পাওয়া জামায়াত নেতা ও কথিত সাংবাদিক সাদাত উল্লাহকে দেওয়া চেক বাতিল হবে বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে সাংবাদিকদের চেক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সাদাত উল্লাহ নামে একজন চেক পান। পরে জানতে পারি উনি জামায়াত নেতা ও জামায়াতের ব্যানারে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়ন থেকে নির্বাচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। জানতে পারি তিনি মূলধারার কোনো সাংবাদিক নন। আমি দায়িত্ব নেয়ার আগে ২০১৮ সালে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে অনুদান প্রাপ্তির জন্য তার ফাইল তৈরী হয়। আর তাতে সুপারিশ ছিলো বান্দরবানের জেলা প্রশাসকের। আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্তে নেমেছি। আগামী সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই চেকটি বাতিল করা হবে।

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস জানান, একজন জামায়াত নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাদাত উল্লাহর দুঃস্থ সাংবাদিক সেজে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেক গ্রহণ করা খুবই দু‍ঃখজনক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে ৩৪ কোটি টাকা সাংবাদিকদের কল্যাণে দিয়ে থাকেন। কিন্তু একটি সিন্ডিকেট এসব টাকা নিয়ে নয়ছয় করছে। এরা কারা? এই জামায়াত নেতা আগেও প্রধানমন্ত্রীর অনুদান থেকে চেক পেয়েছিলো। কার ইন্ধনে কার সহযোগিতায় এসব হচ্ছে? আমি দাবি জানিয়েছিলাম ঢাকার বাইরে যেসব বিভাগ বা জেলা রয়েছে সেখানে সাংবাদিক ইউনিয়ন বা যেখানে সাংবাদিক ইউনিয়ন নেই সেখানে প্রেস ক্লাবের মাধ্যমে সাংবাদিক বাছাই করতে। কিন্তু এই দাবি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এটা হলে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটতো না।

গত বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, জামায়াতে ইসলামীর ‘ডোনার’ সাদাত উল্লাহ দুস্থ সাংবাদিক হিসেবে দুই লাখ টাকার অনুদান পান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার হাতে এ অনুদান তুলে দেন। সাদাত উল্লাহ দৈনিক ইনকিলাবের সাংবাদিক হিসেবে ওই অনুদান পেয়েছেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু।


নাবা/ডেস্ক/তারেক

রিলেটেড নিউজঃ