অঢেল অবৈধ সম্পদের মালিক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম, তদন্ত করছে দুদক

অঢেল অবৈধ সম্পদের মালিক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম, তদন্ত করছে দুদকচাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম খান

চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম খানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ চেয়ারম্যানের অবৈধ পন্থায় উপার্জিত সম্পদের বিষয়টি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পে দুস্থদের ঘর বরাদ্দে ঘুষ লেনদেন ও অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় চাঁদপুরে অভিযান চালিয়েছে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে লক্ষ্মীপুর ইউপির চেয়ারম্যান সেলিম খানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এসেছে। ওইসব অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর সদরের ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিম খান এক সময় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কয়েক বছরের ব্যবধানে সেলিম খান আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। গড়েছেন অঢেল সম্পদ। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নদী থেকে কোটি কোটি টাকার বালু উত্তোলন করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়ন্ত্রিত বেড়িবাঁধ খাল দখল করে মাছ চাষ করছেন। গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প, কাবিখা ও কাবিটার অর্থ লোপাটের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আরও অভিযোগ আছে, তিনি এলাকার সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে অর্থাৎ ১ লাখ টাকা শতাংশের জমি ৫-১০ হাজার টাকায় রেজিস্ট্রি করিয়ে নিয়েছেন। চাঁদপুর শহরের কালীবাড়ির কাছে ২১ কোটি টাকায় লাভলী স্টোরের জমি কিনেছেন। শুধু চাঁদপুর নয়, ঢাকায়ও তার নামে-বেনামে অনেক সম্পদ রয়েছে। কাকরাইলে ৪ তলা আলিশান বাড়ি, ডেমরায় ৬ তলা বাড়ি, রাজধানীর হাতিরপুল ও নারায়ণগঞ্জের ভুইগড়সহ বিভিন্ন স্থানে বেনামি সম্পদও রয়েছে। এছাড়া শাপলা মাল্টি মিডিয়া নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খুলে সিনেমা তৈরি করতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ঢাকার ক্যাসিনো ব্যবসাসহ তদবির বাণিজ্য করে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, আরমান ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাঈদসহ চক্রের সঙ্গে সখ্য গড়ে তিনি বিপুল সম্পদ গড়েছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়।

দুদক উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের জানান, লক্ষ্মীপুর মডেল ইউপির বহরিয়া বাজার এলাকার গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের ১ তলা বিশিষ্ট ১শ'টি ভবন নির্মাণ কাজ ও ঘর বরাদ্দকালে প্রতিটি ঘর থেকে ১০-১৫ হাজার টাকা করে ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সেখানে দুদকের একটি টিম অভিযান চালায়। দুদকের কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাফি মোঃ নাজমুস সাদাতের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। দুদকের কেন্দ্রীয় হটলাইন-১০৬ নম্বরে অভিযোগ আসে।

অভিযানকালে দুদক টিম সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখে, ওই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পে চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম খান নিজেই বেআইনিভাবে প্রকল্প এলাকার সন্নিকটে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে লাখ লাখ টন বালু উত্তোলন করেছেন। এতে প্রকল্প এলাকায় নদী ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ১৫টি ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দুদক টিমকে অভিযোগ করেছে, গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলো যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে নির্মাণ করা হয়নি। প্রতিটি ঘর বরাদ্দে ঘুষ লেনদেন হয়েছে। অভিযানের সময় দুদক টিম অভিযোগের সত্যতা পায়। এরপর দুদক টিম সদর উপজেলা প্রশাসনকে অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে নদী খনন এবং নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে মোবাইল টিম পরিচালনা করতে অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে একটি প্রতিবেদন দুদকে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়।


নাবা/ডেস্ক/তারেক

রিলেটেড নিউজঃ