যেভাবে খেলা হয় অনলাইন ক্যাসিনো

যেভাবে খেলা হয় অনলাইন ক্যাসিনো

প্রযুক্তির উৎকর্ষতার ছোঁয়া লেগেছে জীবনের সর্বাঙ্গে। এমন কি বাদ যায়নি জুয়াও। তাই আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় হারিয়ে গেছে জুয়ার জমজমাট আসর। প্রযুক্তির সহজ লভ্যতার কারণে ঘরে বসে জুয়া খেলতে পারে জুয়ারীরা। এতে পুলিশি জামেলা থেকে দূরে থাকা যায়।

সম্প্রতি বাংলাদেশের অনলাইনে ক্যাসিনো খেলার সুযোগ রয়েছে সেটি জানা গেলো রাজধানীর বনানীর একটি বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানে। সেখানে সন্ধান পাওয়া গেছে টি-২১ এবং পি২৪ নামে দুটি অনলাইন জুয়ার ওয়েভ সাইট বা অনলাইন ক্যাসিনোর। এটি পরিচালনা করতেন সেলিম প্রধান। এই অনলাইন ওয়েবে জুয়া পরিচালনার মাধ্যমে আয় হতো কোটি কোটি টাকা। আর সেই টাকার ৫০ ভাগই চলে যেতো দেশের বাহিরে। 

এছাড়াও এই টাকার বিরাট একটি অংশ নিয়মিত লন্ডনে পাঠাতেন বলে জানতে পেরেছে র‌্যাব। টাকা পাঠানোর জন্য ৩ টি ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার করতেন সেলিম। এছাড়া তার এই টাকার লেনদেন হতো ১৩ টি ব্যাংকের মাধ্যমে। 


যে ভাবে দেশে এলো অনলাইন জুয়া:

দেশ ছেড়ে পালানোর সময়ে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া এই সেলিম প্রধানের হাত ধরে দেশে যাত্রা শুরু করে অনলাইন জুয়ার আসর।

এ বিষয়ে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম নাগরিক বার্তাকে বলেন, দেশের ক্লাব পর্যায়ে ক্যাসিনো আলোচনায় আসার পরে র‌্যাবের সাইবার ইউনিট দেখতে পায় দেশে অনলাইনেও ক্যাসিনো (জুয়া) খেলার দুটি ওয়েব সাইট রয়েছে। যার পরিচলানায় রয়েছে সেলিম প্রধান। 

ঢাকায় জন্ম নেওয়া সেলিম প্রধান দীর্ঘদিন জাপান ও থাইল্যান্ডে ছিলেন। সেখানে তার বিভিন্ন ব্যবসা ছিলো। এই সময় উত্তর করিয়ান নাগরিক মিস্টার দু’র সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এই ‘মিস্টার দু’ সেলিমকে বাংলাদেশে একটি কনস্ট্রাকশন ব্যবসার পার্টনার হওয়ার প্রস্তাব দেয়। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনো খোলার পরামর্শ দেন। 

সেই সূত্র ধরে টি-২১ ও পি২৪ নামে অনলাইন (জুয়া) গেমিং সাইট চালু করে। গত ১ বছর ধরে সেলিম এই জুয়ার ব্যবসা চালিয়ে আসছিলো। এজন্য তিনি ব্যবহার করতেন নিজস্ব একটি সার্ভার। এই সার্ভারে সংরক্ষণ করা থাকতো অনলাইন ক্যাসিনোর সব ডাটাবেজ। আর এই জুয়ার সাইট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলো সেলিম প্রধানের সহযোগী আক্তারুজ্জামান। তার মাধ্যমেই পরিচালিত হতো এই ভার্চুয়াল ক্যাসিনো।


অনলাইনে যেভাবে জুয়া খেলে:

বাস্ত ক্যাসিনোতে গিয়ে নগদ টাকা দিয়ে খেলার সুযোগ না থাকলেও কয়েকটি শর্ত পালন করলেই অংশ গ্রহণ করা যায় এই অনলাইন ক্যাসিনোতে। এজন্য অংশ গ্রহণকারীর থাকতে হবে একটি স্মার্ট ফোন। ইন্টারনেট সংযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট। বিভিন্ন ব্যাংকের একাউন্ট খুলে সেখান থেকে পাওয়া ভিসার কার্ডের মাধ্যমে অর্থের নিশ্চয়তা দিতে হবে। এরপরে স্মার্ট ফোনে টি-২১ অথবা পি২৪ নামের মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করে সেখানে নিজের নামে আইডি ওপেন করলেই নিশ্চিন্তে অংশগ্রহণ করা যাবে এই অনলাইন ক্যাসিনোতে। 

হাজার থেকে লাখ বা কোটি বাজি ধরা যাবে প্রতি খেলায়। বাজি ধরার পরে যদি কেউ জিতে যায় তাহলে হিসেব মতো সয়ংক্রিয় ভাবে তার হিসেবে সেই টাকা জমা হয়ে যাবে আর যদি হেরে যান তাহলে অংশগ্রহণকারীর টাকা চলে যাবে ক্যাসিনোর নামে খোলা একটি গেট ওয়েতে। যেখানে তাদের ইচ্ছে মতো হিসেবে টাকা জমা হবে। আর এভাবেই হাজার হাজার যুবক কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হিরো থেকে জিরো হয়ে নিজের ভবিষ্যতকে ফেলে দিচ্ছেন অন্ধকারে গভির কূপে। যেখান থেকে ফিরে আসার কোন পথ খোলা থাকে না ফলে বাধ্য হয়ে বেছে নেন আত্মহত্যা বা বড় কোন অপরাধের পথ।


জুয়ার টাকা পাচার হতো বিদেশে :

অনলাইনে ক্যাসিনো চালানোর ফলে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা আয় ছিলো সেলিম প্রধানের। আর ক্যাসিনো থেকে আয়ের ৫০ ভাগ টাকার শেয়ার পেতেন মিস্টার দু। যা প্রতি মাসে তিনি নিজে এসে বা সেলিম প্রধান গিয়ে সরাসরি দিয়ে আসতেন দু এর কাছে। 

এছাড়া লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই টাকা পাচার করা হতো বলে প্রামণ পেয়েছে র‌্যাব। 

র‌্যাব জানায়, সেলিম প্রধানের গুলশানের বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩২টি দেশের ৭৭ লাখ টাকা সমমূল্যের মুদ্রা পাওয়া গিয়েছে। যার মাধ্যমে এই সকল দেশেও এই টাকা পাচার হয়েছে বলে ধারণা করছেন তারা।


এছাড়া সেলিম প্রধানের বাসায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি বিভিন্ন ব্রান্ডের সিগারেট ও মদ পাওয়া গিয়েছে। খেলা পরিচালনার অত্যাধুনিক একটি সার্ভার, ৮ টি ল্যাপটপ পাওয়া গিয়েছে তার ‘প্রধান গ্রুপ’  নামের নিজস্ব অফিসে।


রিলেটেড নিউজঃ