ভূমি অধিগ্রহনের মামলার আসামি কিশোরগঞ্জের সাবেক ডিসি

ভূমি অধিগ্রহনের মামলার আসামি কিশোরগঞ্জের সাবেক ডিসি

কিশোরগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাসকে কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকার বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহনের ৫কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় আসামি না করায় নারাজির আবেদন করেছে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মিয়া মোহাম্মদ ফেরদৌস।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সায়েদুর রহমান এর আদালতে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মিয়া মোহাম্মদ ফেরদৌস জনস্বার্থে এ না রাজির আবেদন করেন। মামলাটি আমালে নিয়েছে আদালত।

নারাজির আবেদন থেকে জানা গেছে, জেলার “হাওর এলাকার বন্যা ব্যবস্থাপনা ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্প” এর জন্য ১৪০.৩৯৯ একর (কম বেশি) ভূমি হুকুম দখল করার জন্য প্রস্তাব প্রদান করেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক কিশোরগঞ্জ কর্তৃক নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলার নুন্নীর হাওড় উন্নয়ন উপ প্রকল্পের অধীন ১৩২.৩১৮৭ হেক্টর (১৪০.৩৯৯ একর এর পরিবর্তে সংশোধিত) একর ভূমি অধিগ্রহণ করার প্রস্তাব দেন। উক্ত প্রকল্পের ৫ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়। উক্ত টাকা কিশোরগঞ্জ সাবেক ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা মো. সেতাফুল ইসলাম দুর্নীতির মাধ্যমে উত্তোলন করেন। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাকে পিরোজপুর থেকে গ্রেফতার করে।

সেতাফুল ইসলাম সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তসলিমা আক্তারের নিকট ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে স্ববিস্তারে ৫ কোটি টাকা উত্তোলনের পর কিশোরগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক আজিমুদ্দিন বিশ্বাসকে ১ কোটি টাকা, সাবেক অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. মাইনুল হককে ২০ লক্ষ টাকা, কিশোরগঞ্জ জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের অডিটর এস.এম জামানকে ৫ লক্ষ টাকা, কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দুলাল চন্দ্র সূত্রধরকে ১৫ লক্ষ টাকা, অফিস পিয়ন দুলাল মিয়াকে ১ লক্ষ টাকা, মো. মুখলেছুর রহমানকে ৫০ লক্ষ টাকা প্রদান করেন।

পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশন কিশোরগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক আজিমুদ্দিন বিশ্বাস, কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দুলাল চন্দ্র সূত্রধর ও সাবেক অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. মাইনুল হককে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। ফলে জনস্বার্থে সংক্ষুব্ধ হয়ে উক্ত অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মিয়া মোহাম্মদ. ফেরদৌস নারাজির দরখাস্ত দেন। বিজ্ঞ স্পেশাল জজ আবেদনটি গ্রহণ করে তার পূর্ণাঙ্গ শুনানীর জন্য আগামী ৩০ অক্টোবর ধার্য্য করেন। মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট নজরুল ইসরাম নুরু।


নাবা/ডেস্ক/হাফিজ

    মতামত দিন