ক্যাসিনো কাণ্ড: বেরিয়ে আসছে রাঘব বোয়ালরা

ক্যাসিনো কাণ্ড: বেরিয়ে আসছে রাঘব বোয়ালরা

চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এমন কোনো নেতাকর্মী দলে প্রয়োজন নেই প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনার পর অবৈধ সব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এবার নড়েচড়েই বসেছে প্রশাসন। 

রাজধানী ঢাকায় দিনের পর দিন প্রভাবশালী রাজনীতিকদের ছত্রছায়ায় চলে আসছে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা। এসব ব্যবসার আড়ালে জড়িত রয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও সেচ্ছাসেবক লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে গত বুধবার রাতের অভিযানে ধরা পড়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। তবে এসব কর্মকাণ্ডের আড়ালে জড়িত আছেন আরও বড় বড় রাঘব বোয়ালরা। যাদের কাছে অনেকটাই চুনুপুঁটি বলা যায় খালেদকে।

যুবলীগ নেতা খালেদকে গ্রেফতারের পর গত বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় র‍্যাবের মোট পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেট। এসব অভিযানে চারটি ক্যাসিনো থেকে অন্তত ২০১ জনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। 

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, রাজধানীতে যুবলীগের মদদে অন্তত ৬০টি ক্যাসিনো চলছে। এরমধ্যে মতিঝিল, ফকিরাপুল এলাকায় কমপক্ষে ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেন খালেদ। ১৬টি ক্লাব নিজের লোকজন দিয়ে আর ফকিরাপুল ইয়ংমেনস নামের ক্লাবটি সরাসরি তিনি পরিচালনা করেন। প্রতিটি ক্লাব থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১ লাখ টাকা নেন তিনি। এসব ক্লাবে সকাল ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত চলে ক্যাসিনো। 

জুয়ার ব্যবসা বাদেও যুবলীগ নেতা খালেদের বিরুদ্ধে আছে চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ। রাজধানীর খিলগাঁও-শাহজাহানপুর হয়ে চলাচলকারী লেগুনা ও গণপরিবহন থেকে নিয়মিত টাকা দিতে হয় খালেদকে। প্রতি কোরবানির ঈদে শাহজাহানপুর কলোনি মাঠ, মেরাদিয়া ও কমলাপুর পশুর হাটও নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। 

জানা যায়, মতিঝিল, শাহজাহানপুর, রামপুরা, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। এসব এলাকায় থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যথাক্রমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), রেলভবন, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ওয়াসার ফকিরাপুল জোনসহ বেশিরভাগ সংস্থার টেন্ডারের নিয়ন্ত্রণও ছিল তার হাতে। ‘ভূঁইয়া অ্যান্ড ভূঁইয়া’ নামের প্রতিষ্ঠানটি দিয়ে তিনি তার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।


নাবা/ডেস্ক/হাফিজ

    মতামত দিন