মেহেরপুরে অ্যানথ্রাক্সের ছোবল, আক্রান্ত ৫ শতাধিক

মেহেরপুরে অ্যানথ্রাক্সের ছোবল, আক্রান্ত ৫ শতাধিক

মেহেরপুরের গাংনীতে অ্যানথ্রাক্স মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৯ মাসে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত মোট ৫০১ জন রোগী গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া প্রায় প্রতিনিদই নতুন নতুন রোগী গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসছেন। 

উপজেলার ভিটাপাড়ার বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম। গত ১০ দিন আগে তার একটি গরু হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। পরে তিনি গরুটিকে জবাই করে মাংস বিক্রি করেন। তার দুদিন বাদেই তার দুই হাত ও মুখে ফোড়া ও পচন দেখা দেয়। এতে করে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানকার ডাক্তার জানান, তিনি অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত।

গরু জবাইয়ের সহযোগিতা করায় তার ভাই ইদ্রীস এবং ফজলু অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হন। এছাড়া মাংস রান্না করার সময় গরুর রক্ত ও বর্জ হাতে লাগায় স্ত্রী সালেয়ারা ও মেয়ে নারগিসও এ রোগে আক্রান্ত হন।

অ্যানথ্রাক্স আক্রান্তরা জানান, হাটবাজার থেকে গবাদি পশুর মাংস এনে রান্না করে খেয়ে এ রোগ দেখা দিয়েছে। মাংস খাবার পরপরই মুখসহ বিভিন্ন অঙ্গে চুলকানি দেখা দিয়েছে। তারপর আক্রান্তস্থান ফুলে যায় ও সেখান থেকে পানি ঝরে। পরে ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে জানা যায় এটি অ্যানথ্রাক্স রোগ।

এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা  মোস্তফা জামান বলেন, ‘বর্তমানে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ রোগের বিস্তার বেড়েছে। তাছাড়া লোকবলের অভাবে তেমন কোনো তদারকিও করা সম্ভব হয়না। অনেকেই গ্রামে পশু জবাই করেন। অসুস্থ্য গবাদি পশুর মালিকরাও নিজেরাই জবাই করে মাংস বিক্রি করে থাকে। এখান থেকেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।’

রোগতত্ব বিভাগ (সিডিআইএল এর ইউএলও) ঢাকা, ডা. গোলাম আজম  বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় রোগীদের কাছ থেকে রক্ত সংগৃহীত রক্ত এবং ফ্রিজে রাখা মাংস পরীক্ষা করে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু পাওয়া গেছে।’

এব্যাপারে জনসচেতনতা তৈরি করে এনথ্রাক্স প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ নেবেন বলে মন্তব্য করেন গাংনী  উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান।

নাবা/ডেস্ক/কেএ

রিলেটেড নিউজঃ

    মতামত দিন