পরিচ্ছন্নতা অভিযানের দিকপাল ‘বিডি ক্লিন’

পরিচ্ছন্নতা অভিযানের দিকপাল ‘বিডি ক্লিন’

ঘর থেকে বের হলে যেখানেই চোখ যায় সেখানে ময়লা আবর্জনার স্তুপ। যেখানে সেখানে ময়লা সবাই ফেলে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নাক চেপে যাতায়াত করতে হয় রাস্তার মধ্য ফেলে রাখা ময়লার স্তুপের পাশ দিয়ে। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার দায়িত্ব কেউ নিতে চায় না। ফলে দিন দিন ময়লার স্তুপে পরিনত হচ্ছে চারপাশ। যার প্রভাবে দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতির মুখে পরছে পরিবেশ।

তবে একটু সচেতনতা আর সদিচ্ছা থাকলেই পরিবেশকে আরো সুন্দর এবং ময়লা আবর্জনা মুক্ত করা সম্ভব। ময়লা আবর্জনা মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে কেবলমাত্র দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং সচেতন থাকেলেই সম্ভব। সেই কাজ টি করে দেখিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ ও সামাজিক সংগঠন ‘বিডি ক্লিন’।

২০১৬ সালে ‘ঢাকা ক্লিন’ নামে যাত্রা শুরু করলেও সময়ের প্রয়োজনে ‘বিডি ক্লিন’ নামে নাম করণ করা হয়। দেশের তরুণদের হাত ধরে চলা এই সংগঠনটি দেশের ৫০ টিরও বেশি গরুত্বপূর্ণ স্থান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে দেখিয়ে দিয়েছে সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে কোটি কোটি টাকার বাজেট আর বিশাল বিশাল যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না।


সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রয়োজন শুধু দেশের প্রতি ভালবাসা আর ইচ্ছা শক্তি। যার সর্বশেষ উদাহরণ চট্রগ্রামের মহেশখালিতে আর্টিলারি খাল পরিষ্কার। এই খালের আগের চিত্র দেখলে যে কেউ আঁতকে উঠবেন! শাস্তি হিসেবেও সেই খালের পানি ছুঁতে চাইবেন না। কিন্তু সংগঠনটির সদস্যরা সেই খালের বুক সমান পানিতে নেমে ময়লা পরিস্কার করার মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে চাইলেই দেশকে সুন্দর ও ময়লা আবর্জনা মুক্ত করা সম্ভব।


কথা হয় বিডি ক্লিনের আইটি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান কাজী হাসান আল মাহমুদের সঙ্গে। নাগরিক বার্তাকে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ফরিদ উদ্দিনের উদ্যোগে ২০১৬ সালের জুনের ৩ তারিখ ‘ঢাকা ক্লিন’ নামে যাত্রা শুরু হলেও সময়ের প্রয়োজনে এবং তরুণদের আগ্রহের ফলে ‘বিডি ক্লিন’ নামে নাম করণ করা হয়। কারণ দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে অনেকেই আমাদের সঙ্গে সেচ্ছায় কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। ফলে প্রত্যেকের জেলায় কাজের সুযোগ করে দেওয়া এবং ঢাকার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলা শহর এবং উপজেলা শহরগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও মানুষকে সচেতন করতে সংগঠনটির আকার বড় হয়ে যায়। বর্তমানে ১৭ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত সদস্য নিয়ে দেশের ৫৫ টি জেলা ১০ টি উপজেলায় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশব্যাপি আলোচিত এ সংগঠনটির এই সেচ্ছাসেবক বলেন, ছোট ছোট বিভিন্ন পরিস্কার অভিযান চালানোর পরে ২০১৭ সালে ‘পরিচ্ছন্নতা শুরু হোক আমার থেকে’ এমন স্লোগানে একটি রোড শোর মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে।


এই রোড শো টিতে অংশ নিয়েছিলো প্রায় ২ হাজার মানুষ। রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে শাহবাগ পর্যন্ত এই ২ হাজার মানুষ প্রতি ৫ ফিট পর পর দাঁড়িয়ে পরিচ্ছনতার শপথ নিয়েছিলো এবং প্রত্যেকে নিজ হাতে রাস্তার ময়লা পরিষ্কার করেছিলো। একই বছরের শেষের দিকে এসে দেশের ঐতিহাসিক বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ১২ সপ্তাহের এক পরিস্কার অভিযান চালানো হয়। এতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ময়লামুক্ত করে পরিস্কার ক্যাম্পাস হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লিন ও গ্রীণ ক্যাম্পাস নামে একটি অভিযান চালানো হয়েছিলো সেই অভিযানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস পরিস্কার করার পাশাপাশি গাছ রোপন করে দেওয়া হয়েছিলো।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমাদের সঙ্গে যারা কাজ করছেন তাদের বেশির ভাগই তরুণ। এই তরুণদের মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি পাশাপাশি ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন দেশের প্রতি ভালবাসা নিয়ে তৈরি হতে পারে এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়ে তুলতে পারে সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আমার প্রতিটি পরিস্কার অভিযান শেষে যে স্থানটি পরিস্কার করি সেই স্থানে গাছ রোপন করে দিয়ে আসি। যাতে পরবর্তীতে কেউ ময়লা ফেলতে না পারে। সুন্দর পরিবেশ থাকার কারণে ময়লা ফেলতে যে কারো বিবেকে বাধা দিবে।


বিডি ক্লিনের দেশ ব্যাপি শাখা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের কার্যক্রম কমিটি ভিত্তিক নয় ‘বিডি ক্লিন’ পরিচালিত হয় সমন্বয়কদের মাধ্যমে। একজনকে মূল সমন্বয়ক করে তার সহযোগি হিসেবে আরো কয়েকজন থাকে। ঢাকাকে দু ভাগ করে উত্তর ও দক্ষিণে একজন করে সমন্বয়ককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সারাদেশে ৫৫ টি জেলায় একজন করে জেলা সমন্বয়ক, ৮ টি বিভাগে বিভাগিও সমন্বয়ক। আর সদ্য যুক্ত হওয়া ১০ টি উপজেলার জন্য ১০ জন সমন্বয়ককের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের কার্যক্রম। আমাদের প্রতিটি শাখার কার্যক্রম পরিচালিত হয় ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে। ফলে প্রতে্যক শাখার কার্যক্রম সম্পর্কে দেশের সব শাখাগুলো জানতে পারে।


তিনি আরো বলেন, আমাদের সঙ্গে যে সকল সদস্য যুক্ত হয়েছে তারা শুধুমাত্র পরিস্কারের-পরিচ্ছন্নতার শপথই পাঠ করছে না। তারা এটিকে ধারণ করছে। ফলে নিজেদের ব্যাক্তি জীবনেও তারা এটির বাস্তবায়ন করেন। 

নাবা/রাজু/এনএম

    মতামত দিন