আমাকে আমার মতো চলতে দাও!

আমাকে আমার মতো চলতে দাও!

রাজধানী ঢাকার প্রতিটি সড়ক সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকে। সড়কে কানায় কানায় পূর্ণ থাকে গাড়ি। একটু পর পর গাড়ির চাকা থেমে যায় ট্রাফিক পুলিশের ইশারায়। তবে রাজধানীর সড়কে গাড়ি থামার পেছনে আরো একটি বাধা কাজ করে। আর সেটি হচ্ছে সাধারণ মানুষের যত্রতত্র রাস্তা পারাপার। যখন তখন যে যার মতো রাস্তা পার হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টা দাড়িয়েছে আমাকে আমার মতো চলতে দাও। ফলে প্রতিদিনিই ঘটছে দুর্ঘটনা।


রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক কনস্টেবল রুবেল মিয়া জানালেন, ‘পাশেই ফুটওভার ব্রিজ থাকার পরও সাধারণ মানুষ রাস্তার মাঝখান দিয়ে পার হয়। এতে সিগন্যাল না থাকলেও গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। আমরা তো কিছু বলতে পারি না। ৩০ গজ দুরেই ফুটওভার ব্রিজ কিন্তু মানুষ সেখান দিয়ে রাস্তা পার না হয়ে এখান দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে।’


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের একটি আইন রয়েছে। ব্যস্ত সড়কের যেসব স্থানে ফুটওভার ব্রিজ, জ্রেবা ক্রসিং ও আন্ডারপাস রয়েছে সেসব জায়গায় যদি কেউ এগুলো ব্যবহার না করে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হন তাহলে তাকে ট্রাফিক আইন ভাঙার দায়ে ৩০০ টাকা জরিমানা করা হবে। তবে, খাতা কলমে এই আইন থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ খুবই কম। মাঝে মধ্যে ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে রাস্তা পারাপারের বিষয়ে সচেতনতা এবং আইন ভাঙার দায়ে অভিযান চালালেও কে শোনে কার কথা! একটু সময় বাঁচাতে আইনের তেয়াক্কা না করেই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হন বেশিরভাগ মানুষ। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনা।


অবশ্য এমনভাবে রাস্তা পার হওয়াকে সচেতনতা আর আইনের অভাব দেখছেন পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। তারা বলছেন মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি আইনের প্রয়োগ থাকলে রাস্তা পারাপারের এমন দৃশ্য কমিয়ে আনা সম্ভব।


এ বিষয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ নাগরিক বার্তাকে বলেন, ‘রাস্তা পারাপারে সাধারণ জনগনের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। যেমন ফুটওভার ব্রিজ, জেব্রা ক্রসিং ও আন্ডারপাস ব্যবহার করা। মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় রাস্তা পার না হওয়া এবং বিশেষ করে সিগন্যাল ছেড়ে দেওয়ার পরে রাস্তা পার না হওয়া। তবে মানুষ যে কাজটি সবচেয়ে বেশি করে তা হলো তারা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চলার সময়ে দৌঁড় দিয়ে রাস্তা পার হন। এ কারণে ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য বেশি করে জনসচেতনতা তৈরি করার পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাৎক্ষনিকভাবে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। এছাড়া তাদেরকে মোটিভেট করা যাতে রাস্তা পার হওয়ার ক্ষেত্রে তারা আরো সচেতন হয় ও নিয়ম মেনে চলে। তবে সাধারণ মানুষের এমন অভ্যাস সহজে বদলাবে না। এজন্য শুধু পুলিশের কাজ করলে হবে না। পুলিশের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন, সরকারি, বেসরকারি এনজিও ও বিআরটিএসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’


পুলিশের এই কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, ‘ট্রাফিক আইন ভেঙে রাস্তা পারও হওয়ার অপরাধে শাস্তি দেওয়ার আইন নেই বললেই চলে। তাই পুলিশ চাইলেও এ বিষয়ে কঠোর হতে পারছেনা। সরকারের উচিত রাস্তা পারাপার আইনে পরিবর্তন করা।’

রাতে ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে পারাপার হওয়াটা পুরোপুরি নিরাপদ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে পারাপারের সময় নিশ্চিত করতে হবে লাইটের আলো আছে কি না। তাই পুলিশের পাশাপাশি ফুটওভার ব্রিজগুলো নিরাপদ করণে সিটি করপোরেশনেরও দায়িত্ব রয়েছে। তবে সবার উচিত রাতের বেলা দলবদ্ধভাবে ফুটওভার ব্যবহার করা। বিশেষ করে নারীরা একা ফুটওভার ব্রিজ পার না হওয়াই ভালো। এক্ষেত্রে  সচেতনতাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

নাবা/ডেস্ক/কেএ

রিলেটেড নিউজঃ

    মতামত দিন