কেনো শসা খাবেন?

কেনো শসা খাবেন?

খাবার হজমে সাহায্যকারী

শসায় প্রচুর পরিমাণ পানি ও আঁশ থাকে। এই উপাদানগুলো খাবার হজম হতে এবং রুচি বাড়াতে সাহায্য করে। তাই, আপনার শিশু যদি খাবারের ব্যাপারে অনীহা দেখায় তাহলে তাকে শসা খেতে উৎসাহিত করুন। এছাড়া, আপনি নিজেও এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।

ওজন কমায়

শসায় আছে প্রচুর পরিমাণ পানি। তাই, এই সব্জিটি আমাদের পেট অনেকটা সময় পর্যন্ত ভরা রাখতে সাহায্য করে। অনেক খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখে। এতে করে ওজন সহজেই কমে যায়।

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে 

শসাতে ফসফরাস এবং ফিস্টেইন পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলো মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অনেক বেশি উপকারী ভূমিকা পালন করে। তাই, প্রতিদিন একটি শসা খেলে ভুলে যাওয়া বা মানসিক ও স্নায়ু সংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারবেন আপনি। 

ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্যকারী 

ফিস্টেইন যে শুধু মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতেই সাহায্য করে তা নয়। একইসাথে, ক্যানসারের জীবাণুকেও তুলনামূলকভাবে কম কাজ করতে সাহায্য করে এই উপাদানটি। প্রতিদিন একটি শসা খাওয়ার ফলে কোলন ভালো থাকে এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসার প্রতিরোধ করা সহজ হয়। 

পানিশূন্যতা রোধ করে 

পানি খেতে বারবার ভুলে যান? একটি শসার শতকরা ৯৫ শতাংশি পানি। আর তাই, শসা খেলে পানির এই শূন্যতা রোধ করা অনেক বেশি সহজ হয়ে পড়ে। আপনি যদি অতিরিক্ত ঘেমে থাকেন তাহলে শরীরকে পানি প্রদান করতে শসা খান। 

ত্বককে সুস্থ ও সুন্দর রাখে

শসা যেহেতু শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে দূরে রাখে, তাই ত্বকেও এর প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে, শসায় ভিটামিন সি, জিংক, নিয়াসিন এবং রিবোফ্লাভিনের মতো বি ভিটামিনগুলো মজুদ থাকায় ত্বকের জন্য উপকারিতা আরও বেশি বেড়ে যায়। এছাড়াও, শসায় ক্যাফিক এসিড থাকায় ত্বকের নানারকম প্রদাহ ও অন্যান্য সমস্যা থেকেও দূরে থাকা যায়।

চুলের স্বাস্থ্য সুরক্ষা 

শসায় মজুদ থাকা বি ভিটামিন মাথার ত্বককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে আছে বায়োটিন, নিয়াসিন, রিবোফ্লাভিন, ভিটামিন বি৫, বি৬ এবং সি- যেগুলোর প্রত্যেকটাই চুলকে বেড়ে উঠতে ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। 

হৃদপিণ্ডের জন্য ভালো

শসায় পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন কে রয়েছে। হৃদপিণ্ডের সঠিক কার্য পরিচালনার জন্য এই তিনটি উপাদানই অন্যন্ত প্রয়োজন। ভিটামিন কে রক্ত সঠিকভাবে পরিচালিত হতে সাহায্য করে এবং রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ঠিক রাখে। ম্যাগনেশিয়াম এবং পটাশিয়ামের ঘাটতি রক্তচাপকেও প্রভাবিত করে। কোলেস্টেরল কমাতেও শসা অনেক সাহায্য করে। 

হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে

শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে ফসফরাস অনেক বড় ভূমিকা রাখে। শসায় শতকরা ৪% ফসফরাস থাকে। তাই, নিয়মিত শসা গ্রহণ করলে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়। 

দাঁতের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে 

শসায় মলিবডেনাম এবং ফ্লুরাইড থাকে। এই দুটি উপাদানের মিশ্রণ দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে। তাই, নিয়মিত শসা খেলে আপনার দাঁতের স্বাস্থ্যও উন্নত করাটা অধিকতর সহজ হবে। এছাড়া, শসায় থাকা ক্যালসিয়ামও দাঁতকে আরও বেশি শক্ত করতে সাহায্য করে। তাই, দাঁতকে সুস্থ রাখার সহজ উপায় হিসেবে শসা খান।

প্রতিদিন একটি শসা খাওয়া কোন ব্যাপারই না। কিন্তু, এই একটি কাজই আপনার শরীরকে অনেক অনেক বেশি সুস্থ রাখতে পারে। তাই, আজ থেকেই নিয়মিত একটি করে শসা খান এবং আরও বেশি সুস্থ থাকুন। 

সূত্র- ব্রাইটসাইট। 

    মতামত দিন