‘ওরা আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দিয়েছে’

‘ওরা আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দিয়েছে’

‘ওরা আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দিয়েছে’ এমনটাই অভিযোগ করলেন আলোচিত আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের পুত্রবধূ ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা। পিয়াসা বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের স্ত্রী।

এদিকে মামলা তুলে নিতে দিলদার আহমেদ বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন পিয়াসা। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত মামলা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ রোববার (২৫ আগস্ট) ঢাকা মহানগর হাকিম মো. তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে মামলায় নারাজি দেয়ার পর ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা এসব কথা বলেন। আদালত নারাজির ওপর শুনানির জন্য আগামী ১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।

মামলার বাদী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা বলেন, ‘সাফাতের সঙ্গে আমার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর শ্বশুরের পরিবারের সঙ্গে যৌথভাবে বসবাস করে আসছি। বিয়ের পর থেকে আমার শ্বশুর দিলদার আহমেদ আমাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেন। আমাকে তালাক দেয়ার জন্য সাফাতকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। তালাক না দিলে তাকে ত্যাজ্যপুত্র ও সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার হুমকি দেন।’

পিয়াসা আরও বলেন, নারী নির্যাতন ও গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগে আমার শ্বশুরসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। এ মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)  নির্দেশ দেন আদালত। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান আমার কাছে অবৈধভাবে অর্থ দাবি করেন।

আমি টাকা না দেওয়ায় তিনি আদালতে আমার শ্বশুরের পক্ষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আমি আজ এ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দিয়েছি।

বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, সাফাত বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলায় দীর্ঘ দিন কারাগারে থাকার পর গত ৩১ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান। এরপর তাকে নির্যাতনের বিষয়গুলো জানিয়েছি। এতে শ্বশুর আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন। আমি ও সাফাত একসঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৩ ফেব্রুয়ারি তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। সাফাত কারাগারে যাওয়ার পর দিলদার আহমেদ ও তার সহযোগী মোখলেছুর রহমান আমাকে নির্যাতন করেন।

পিয়াসার মামলার সত্যতা খুঁজে পায়নি বলে গত ২৮ জুলাই একই আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন মামলা তদন্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান। প্রতিবেদনে বলা হয়, দিলদার আহমেদ সেলিম ও আপন রিয়েল এস্টেটের পরামর্শক ও তত্ত্বাবধায়ক মো. মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।


নাবা/ডেস্ক/হাফিজ


রিলেটেড নিউজঃ

    মতামত দিন