ব্রাজিলে পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জরিমানার হার কমেছে

  • প্রকাশিতঃ রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ২১:১০
ব্রাজিলে পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জরিমানার হার কমেছে

ব্রাজিলে পরিবেশ বিধি লঙ্ঘনের জন্য আগে যে  জরিমানা করা হত এখন তার  হার কমে গেছে।  এটিকে  অ্যামাজন জঙ্গলে রেকর্ডসংখ্যক আগুন লাগার জন্য দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।  প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো ক্ষমতায় আসার পর  পর থেকে ব্রাজিলে বন উজাড়করণের ক্ষেত্রে দায়মুক্তির সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে।

তখন থেকে কমে গেছে পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জরিমানা আদায়ের হারও। ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত জরিমানা হয়েছে ৬,৮৯৫টি ঘটনায় যা আগের বছরের তুলনায় ২৯.৪ শতাংশ কম। আগের বছর একই সময়ে ৯,৭৭১টি জরিমানা করেছিল ইবামা।

 

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের ২০ শতাংশেরই উৎপত্তি অ্যামাজনে। গবেষকদের মতে এই বন প্রতিবছর ২০০ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে। সে কারণে একে ডাকা হয়ে থাকে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ নামে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হারকে ধীর করতে অ্যামাজনের ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রেকর্ড হারে জ্বলছে ‘পৃথিবীর  ফুসফুস’ খ্যাত ব্রাজিলের অ্যামাজন জঙ্গল। ইতোমধ্যেই পুড়ে গেছে সেখানকার সাত হাজার ৭৭০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা। আগুন নেভাতে ব্রাজিল সরকারের জোরালো তৎপরতা না থাকার প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেশটির দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন পরিবেশ অধিকারকর্মীরা।

পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, ব্রাজিলের উগ্র ডানপন্থী সরকার কথিত উন্নয়নের নামে  বন উজাড় করার উৎসাহ দিচ্ছে। আর তার ফলশ্রুতিতেই পুড়ছে অ্যামাজন।

ব্রাজিলের পরিবেশবিষয়ক সংস্থার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর জানুয়ারি থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত জরিমানার পরিমাণ এক তৃতীয়াংশ কমেছে। একই সময়ে ব্রাজিলে আগুন লাগার সংখ্যা বেড়েছে ৮৪ শতাংশ।

এসব আগুন লাগার ঘটনার কতগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘটিত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।  তবে সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, দায়মুক্তির সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে বন ধ্বংস প্রক্রিয়াকে ‘সবুজ বাতি’ দেখাচ্ছে প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোর প্রশাসন।

পরিবেশবাদীরা বলছেন,অ্যামাজনকে বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করার সরকারি নীতির কারণেই  এ ভয়াবহ আগুন লেগেছে । অঞ্চলটিকে ঘিরে করা কয়েকটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কথিত উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য কৃষির বিস্তৃতি, বৈধ ও অবৈধ খনি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের জন্য ঘটছে অরণ্য বিনাশ। সুত্র:বিবিসি।

নাবা/ ডেস্ক/তানিয়া রাত্রি

    মতামত দিন