গলাচিপায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

গলাচিপায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বাঁশবুনিয়া ইসলামিয়া আলীম সিনিয়র মাদ্রাসায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা। কর্তৃপক্ষ বিষয়টির প্রতি নজর না দেয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েই ভীতিকর অবস্থায় ক্লাস করছে তারা। এতে যেকোন মূহুর্তে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই মাদ্রাসাটি ১মে টিনশেড দিয়ে তৈরি হয় এবং ভবন নির্মিত হয় ২০০২ সালে শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের আওতায়। কিন্তু নিন্মমানের কাজের কারণে ভবনটির বিভিন্ন অংশে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। টিনসেডের ভবনে হাল্কা বৃষ্টি হলেই ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে শিক্ষার্থীদের বই পুস্তক, কাপড় চোপড় ভিজে যায়। আর পাকা অংশে যেকোন সময় ছাদের প্লাস্টার ভেঙ্গে পড়তে পারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর।

এ অবস্থায় মাদ্রাসাতে ৩০০ জন শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে ক্লাস করলেও সুষ্ঠু পাঠদান কার্যে ব্যাহত হচ্ছে। এরপর বিদ্যালয়ে রয়েছে আসবাবপত্র সংকট, বাউন্ডারি ওয়ালসহ নানান সমস্যা। এছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যবহারের জন্য নেই উপযোগী বাথরুম।

মাদ্রাসার ৮ম শ্রেনীর ছাত্র মো. তানভির হোসেন বলেন একটু বৃস্টি হলেই টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে। এতে বই, খাতা ভিজে যায়। 


৯ম শ্রেণির জাবের, উন্মে সাহারা, লিজা, আবুবকরসহ একই সমস্যার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা বলেন, কাল বৈশাখীর ঝড়ের সময় কখন যে টিন এসে আমাদের গায়ে পরে আর সেই ভয় নিয়েই আমাদের ক্লাস করতে হয়।

এ ব্যাপারে বাঁশবুনিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবুল বাসার জানান, মাদ্রাসা ভবনের কিছু অংশে প্লাস্টার খসে এবং টিন সেটের ভবন গুলো নস্ট হয়ে যায় যার ফলে ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকতে হয়। তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার, প্রকৌশলী বিভাগ এবং জেলা শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হবার পরও আজও কোন নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন ঝূঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা উচিত না, বিয়ষটি নিয়ে গলাচিপা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।


নাবা/ডেস্ক/ওমর


রিলেটেড নিউজঃ

    মতামত দিন