কাশ্মীর ইস্যু: চাকরি ছেড়ে সরকারি কর্মকর্তার প্রতিবাদ!

কাশ্মীর ইস্যু: চাকরি ছেড়ে সরকারি কর্মকর্তার প্রতিবাদ!
ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের এক কর্মকর্তা ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে চলমান দমন-নিপীড়নের প্রতিবাদে এবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

দেশটির সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ভূস্বর্গ খ্যাত উপত্যকাটির বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রতিবাদে ভারতের প্রথম কোনো শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পদত্যাগ করলেন তিনি।

কর্তৃপক্ষের বরাতে গণমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানায়, সদ্য পদত্যাগী সরকারি এই কর্মকর্তা অবশ্য প্রকাশ্যে কাশ্মীরে ইস্যুতেই ক্ষোভ থেকে পদত্যাগ করছেন বলে এখনো কিছুই জানাননি। 

তিনি বলেছেন, ‘ভেবেছিলাম সিভিল সার্ভিসে থেকে জন সাধারণের সেবা করব। তাদের বক্তব্য প্রকাশ্যে তুলে আনব। তবে দেখলাম এখন আমার কণ্ঠই পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।’

গণমাধ্যমটির দাবি, এতদিন দাদরা ও নগর হাভেলি প্রশাসনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলিয়েছেন এই কান্নান। 

তিনি বলেন, ‘আমি সরকারের কোনো স্বরাষ্ট্রসচিব কিংবা অর্থসচিব নই। আমার পদত্যাগে পরিস্থিতির কোনো বদল হবে না। তবে আমার বিবেক স্বচ্ছ; আর তা থেকেই আমি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

এ দিকে আইএএস অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে গণমাধ্যম ‘এনডিটিভি’ জানায়, জম্মু ও কাশ্মীরে বসবাসরত লোকজনের মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ায় ভীষণ ক্ষুব্ধ এই কান্নান। তারই এক সতীর্থের ভাষায়, ‘ও বলত মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ার অর্থ রাজ্যে জরুরি অবস্থার জারি করা।’

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের ক্ষমতাসীন মোদী সরকারের সঙ্গে এর আগে বিরোধ হয়েছে এই কান্নানের। গত লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণার সময় বিজেপির এক নেতা তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। যে কারণে তিনি তাৎক্ষনিক নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন।

যদিও সদ্য পদত্যাগী কান্নানকে একজন ‘দেশ-বিরোধী’ আখ্যায়িত করে একটি পক্ষ অবশ্য টুইটারে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। যদিও এসব কিছুর পাত্তা দিচ্ছেন না তিনি, ‘দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমি দেশ-বিরোধী তকমা সহ্য করতেও রাজি।’

অপর দিকে আইএএস অ্যাসোসিয়েশন থেকে পদত্যাগ করা কান্নানের পাশেও এরই মধ্যে দাঁড়িয়েছেন অনেক ভারতীয়। প্রাক্তন আইএএস অনিল স্বরূপের মতে, ‘কান্নানের মতো অফিসারদের নিয়ে আমরা গর্বিত। তারাই পারবে একমাত্র ভারতকে এগিয়ে নিতে।’

নাবা/ডেস্ক/কেএইচ/

রিলেটেড নিউজঃ

    মতামত দিন