অফিস সহকারীর সঙ্গে জেলা প্রশাসকের অন্তরঙ্গ ভিডিও, তোলপাড়

অফিস সহকারীর সঙ্গে জেলা প্রশাসকের অন্তরঙ্গ ভিডিও, তোলপাড়

নিজ কার্যালয়ে এক নারীর সঙ্গে অশ্লীল কর্মকাণ্ড করছেন জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর -এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তোলপাড় চলছে সর্বত্র। জেলার নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার এমন দুশ্চরিত্র কাণ্ডে বিব্রত স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহল। অনেকেই ধিক্কার জানাচ্ছেন তাকে।

তবে বিষয়টি নিয়ে কথা নিজেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন আহমেদ কবীর। আজ শুক্রবার দুপুরে জেলা সার্কিট হাউজে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা প্রশাসক। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত অবস্থায় আছি। আপনারা আমাকে একটু সময় দিবেন। প্রকৃত ঘটনা জানতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপনারা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।’ জেলা প্রশাসক এ সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশন না করার জন্যও সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি ভুয়া ভিডিও। একটি হ্যাকার গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছিলো। আমি বিষয়টি গুরুত্ব দেইনি। বানোয়াট ভিডিওটি একটি ফেক আইডি থেকে পোস্ট দেয়া হয়।’


৪ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, আহমেদ কবীর তার অফিসের গোপনীয় কক্ষের বেডরুমে একজন নারীকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাচ্ছেন এবং ওই নারীর শরীরের বিভিন্নস্থানে হাত বুলিয়ে আদর করছেন। এক পর্যায়ে ওই নারী জেলা প্রশাসকের ওই কক্ষের খাটে ওঠে।

জেলা প্রশাসক নিশ্চিত করে বলেছেন, ভিডিওর কক্ষটি তার কার্যালয়ের বিশ্রাম কক্ষ এবং ওই নারী তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী।

জানা গেছে,  ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘খন্দকার সোহেল আহমেদ’ নামের একটি পেজ থেকে আপলোড হয় গত ১৫ আগস্ট বিকেলের দিকে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বিষয়টি বেশি ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল তোলপাড় এবং ধিক্কারের ঝড় ওঠে। আজ শুক্রবার ভোররাত থেকে ওই আইডি থেকে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হলেও এর মধ্যে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সবার কাছে চলে যায় সেটি।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্র জানায়, আহমেদ কবীর জামালপুরে যোগদান করেন ২০১৭ সালের ২৭ মে। যোগদানের কিছু দিন পর থেকেই তিনি তার অফিস কক্ষের পাশে ছোট্ট একটি কক্ষে ধূমপান ও ব্যক্তিগত বা সরকারি গোপনীয় বৈঠকের জন্য কক্ষটি ব্যবহার করেন। সম্প্রতি ওই কক্ষে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য একটি খাট বসানো হয়েছে। তাতে বিশ্রাম নেওয়ার মতো বালিশ, চাঁদর সবকিছুই আছে। ওই কক্ষে একাধিক নারীর যাতায়াতকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিলো। শেষ পর্যন্ত সেখানে একজন নারীর সাথে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের অবৈধ মেলামেশার ভিডিওটি ফেসবুকে, ফেসবুক থেকে ডাউনলোড করে মেসেঞ্জারে, মোবাইল থেকে মোবাইলে এবং ইমেইেলে ছড়িয়ে পড়ায় আগে শোনা সেই গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিয়েছে।


নাবা/ডেস্ক/তারেক

রিলেটেড নিউজঃ

    মতামত দিন