আমাজন জঙ্গলে আগুন দিলো কারা?

আমাজন জঙ্গলে আগুন দিলো কারা?ছবি: সংগ্রহ

পৃথিবীর বিরল এক রহস্যের নাম আমাজন জঙ্গল। ভৌগোলিকভাবে বিশ্বের বৃহত্তম অরণ্য এটি। মানুষ যেমন ফুসফুস ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে না। আমাজন জঙ্গলকেও ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ বলা হয়। গবেষকদের মতে, পৃথিবীর চাহিদার ২০ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ করে ৫৫ লাখ বর্গ কিলোমিটারের বৃহৎ এই জঙ্গল। এতে রয়েছে ১৬ হাজার প্রজাতির কয়েক হাজার কোটি গাছগাছালি।

তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জঙ্গল থেকে দুঃসংবাদ এসেছে মানবজাতির জন্য। গত কয়েকদিন ধরে পুড়ছে আমাজন জঙ্গল। বিগত আট মাসে ৭২ হাজারেরও বেশিবার আগুন লেগেছে এই অরণ্যের নানা প্রান্তে। ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে আমাজনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

তবে আমাজনের এই আগুন নিয়ে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ শোনা যাচ্ছে।

দক্ষিণ আমেরিকার পরিবেশবিদদের ভাষ্য- আমাজনে ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারো দায়ী। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার আগে আন্তর্জাতিক হুঁশিয়ারির তোয়াক্কা না-করেই আমাজন অঞ্চলকে চাষ ও খনিজ উত্তোলনের কাজে ব্যবহারের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট। তার এ উদ্যোগের ফলে বন উজাড় হয়ে যেতে পারে- আন্তর্জাতিক মহলের এমন উদ্বেগ দিনের পর দিন উপেক্ষা করে গেছেন বোলসোনারো। ফলস্বরূপ আমাজনে অন্তত ৭২ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যু হয়েছে অনেক পশুপাখিরও।

তবে প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো পাল্টা অভিযোগ করেন, অকার্যকর কিছু এনজিওর সরকারি বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে মনুষ্যবিরোধী এই কাণ্ড ঘটাচ্ছে। তাকে কোনো কারণ ছাড়াই দোষারোপ করা হচ্ছে। তার দাবি- এই সময়ে আগুন জ্বালিয়ে চাষের জমি তৈরি করেন চাষিরা। এই আগুন তার অংশ।

এদিকে আমাজনের আগুনের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে পরিসংখ্যানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চের (ইনপে) ডিরেক্টরকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট।

ইনপে'র পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে সব মিলিয়ে ৭৫০০ কিলোমিটার বনাঞ্চল হারিয়ে গেছে, যা ২০১৭ সালের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালে আপাতত যে পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে তা থেকে মনে করা হচ্ছে যে, আমাজন বনাঞ্চল উজাড় হওয়ার এই হার তিন গুণ বেড়ে গেছে। শুধু গত মাসেই ২২০০ কিলোমিটার বনাঞ্চল পুড়ে গেছে, যা গত বছরের জুলাই মাসের তুলনায় ২৮০ শতাংশ হারে বেশি। 

চলতি বছর আমাজন রেইন ফরেস্টে ৭২ হাজার ৮৪৩টি দাবানলের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় যা ৮৩ শতাংশ বেশি।

আগুনের কারণে কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়ায় ঢাকা পড়েছে সূর্যের মুখ। এমনকি দুই হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ব্রাজিলের সাও পাওলোর দুপুরের আকাশ যেন ‘রাতের চেয়েও অন্ধকার’ হয়ে উঠেছে আগুনের ধোঁয়ায়। ব্রাজিলের রোরাইমা প্রদেশ থেকে পেরুর আকাশেও হানা দিয়েছে ধোঁয়া।

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার উপগ্রহ চিত্রেও ধরা পড়েছে আমাজনে ঘটতে থাকা ৯ হাজার ৫০৭টি নতুন দাবানলের চিত্র। আমাজনের আগুনের ওপর নজর রাখছে নাসা। আগুনের তীব্রতার ছবিও পাঠাচ্ছে নাসার একাধিক স্যাটেলাইট। তবে আগুনের থেকেও বিজ্ঞানীদের বেশি ভাবাচ্ছে আগুন থেকে সৃষ্টি হওয়া ধোঁয়া। প্রায় এক হাজার ৭০০ কিমি দূরত্ব পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে কালো ধোঁয়া।


নাবা/ডেস্ক/তারেক

    মতামত দিন