যাত্রীবেশে অপহরণ: ধাপে ধাপে মুক্তিপণ আদায়

যাত্রীবেশে অপহরণ: ধাপে ধাপে মুক্তিপণ আদায়
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে গাড়ি ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে কৌশলে তাদের মোবাইল নম্বর নিয়ে গাড়ি ভাড়া করা হয়। এরপর যাত্রীবেশে সেই গাড়ী নিজেদের পূর্ব নির্ধারিত স্থানে নিয়ে অপহরণ নাটক সাজিয়ে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এমন অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে মাদারীপুরে পদ্মার একটি চর থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ মোজাম্মেল হক।

মোজাম্মেল হক জানান, চক্রটি নির্দিষ্ট একটি স্থানে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে গাড়ি ভাড়া করে। পরে ২-৩ জন মিলে সেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। এরপর নির্ধারিত স্থানে পৌছামাত্র অপহরণকারী চক্রের অন্য সদস্যরা গাড়ি থামানোর জন্য সিগনাল দেয়। গাড়ি থামানোর পরে তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তল্লাশির নামে চালককে গাড়ি থেকে বের করে দেয়। গাড়ি তাদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে প্রথমে চালকের চোখ বেঁধে অস্ত্র দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। এরপর চালক ও গাড়ী ভিন্ন দুটি স্থানে নিয়ে যায়।

তিনি জানান, চক্রের সদস্যরা অপহরণের জন্য নিরাপদ স্থানগুলো নির্বাচন করে। যেমন নির্জন চর, চরের আঁখ ক্ষেত বা কাঁশবনের ভেতরে। সেখানে অপহৃত চালককে নিয়ে আটক রাখে এবং তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। চালকের মোবাইল দিয়ে তার কান্নার শব্দ স্বজনদের শুনিয়ে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর তাদের বলে দেওয়া স্থানে যাওয়ার পর তারা অত্যন্ত সু-কৌশলে মুক্তিপণের টাকা নিয়ে অপহৃত ব্যক্তিকে মুক্তি দেয়। কিন্তু অপহৃত হওয়া ব্যক্তি মুক্তি পেলেও তার সঙ্গে থাকা গাড়ি এবং গাড়ির কাগজপত্র ফিরিয়ে দেয় না। এগুলো নিয়ে আবার বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয় এবং একটি একটি করে ফেরতের মাধ্যমে ধাপে ধাপে চাঁদা আদায় করা হয়। আর এভাবেই এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এই অপহরণ কাজ চালিয়ে আসছিলো। তাদের অপহরণের মূল টার্গেট গাড়ি ব্যবসায়ি, গাড়ি চালকরা।

এই কর্মকর্তা জানান, চক্রের মোট সদস্য সংখ্যা ১০ জন। গ্রেফতার ৪ জন হচ্ছেন-  শাহ জালাল (৩২), জেলা-সিরাজগঞ্জ, মোঃ ফয়সাল (২২), জয়নাল হাজারী (৩০), রাকিব (২২)। এদের প্রত্যকের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়। আর পলাতক দলের অন্য সদস্যরা হচ্ছে- নয়ন তারা (২৩), সজিব (২২), রেজাউল (২৮), রব মিয়া (২৪), কামরুল (২৫) এবং মেহেদী হাসান (২৩)। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার, তিনটি মোবাইল ফোন, সাতটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

নাবা/ডেস্ক/কেএইচ

রিলেটেড নিউজঃ

    মতামত দিন