চেয়ারম্যানের পরকীয়া: জরিমানা গুণতে হলো দেড় লাখ টাকা

চেয়ারম্যানের পরকীয়া: জরিমানা গুণতে হলো দেড় লাখ টাকা

পাশের গ্রামের এক গৃহবধূর সঙ্গে প্রথমে মোবাইলে কথা শুরু। এরপর প্রেম। বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে নিয়ে বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্কও হয়েছে। এবার বিয়ের দাবি উঠলে আত্মগোপনে চলে যান জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা আওলাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল রাজ্জাক। পরকীয়া প্রেমের জরিমানা বাবদ ওই নারীকে দিয়েছেন দেড় লাখ টাকা।

আব্দুর রাজ্জাক উপজেলার ছাতিনআলী গ্রামের মৃত ইউনুস মন্ডলের ছেলে ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য।

গৃহবধূ সাংবাদিকদের জানান, ৬-৭ মাস আগে পার্শ্ববর্তী জেলা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামদিয়া গ্রামের এক কন্যা সন্তানের জননীর সঙ্গে চেয়ারম্যান আব্দুল রাজ্জাকের মোবাইলে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর কথা-বার্তা এগুলে একসময় প্রেম শুরু হয়। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করে।

গৃহবধূ বলেন, গত মঙ্গলবার আমার স্বামীসহ আত্মীয়দের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে তারা আমাকে বিভিন্ন রকম চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। আমি চেয়ারম্যান রাজ্জাককে জানিয়ে বিয়ের করতে বললে সে তালবাহানা শুরু করে। কোনো উপায় না পেয়ে বিয়ের জন্য চেয়ারম্যান রাজ্জাকের বাড়িতে আসি। আমি আসার পর সে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আমিনুল ইসলামের বাড়িতেও যান ওই নারী। সে চেয়ারম্যান রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগ করে গৃহবধূকে দেড় লাখ টাকা দেবে জানিয়ে বিষয়টি চেপে যেতে বলে। পরে আমিনুল ইসলামসহ চেয়ারম্যানের পক্ষের কয়েকজন মিলে এক লাখ টাকা দিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পাঠিয়ে দেয়।

কাজী আমিনুল ইসলাম জানান, ওই গৃহবধূকে তার পরিবার রাতে এসে নিয়ে গেছে। ঘটনাটি সত্য নয়, সাজানো নাটক।

আওলাই ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সেকেন্দার আলী বলেন, পাশের জেলার এক গৃহবধূ চেয়ারম্যানকে বিয়ের দাবি নিয়ে এসেছিলো। যেহেতু এটা প্রমাণ সাপেক্ষ ব্যাপার তাই আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের মোবাইলে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পাঁচবিবি থানার ওসি মুনসুর রহমান জানান, ঘটনাটি শুনেছি। ওই গৃহবধূ অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নাবা/ডেস্ক/তারেক

রিলেটেড নিউজঃ

    মতামত দিন