এ যাবত কালের সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা

এ যাবত কালের সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা

আমাদের একজন হাসু বুবু আছেন। যার কাছে আমরা কাঁদতে পারি, হাসতে পারি। কিছু বলতে পারি। তিনি একজন শ্বাশত বাঙ্গালী মায়ের প্রতীক। বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি তাঁর জেষ্ঠ্যকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি, তাঁর ছায়া দেখতে পাচ্ছি আমাদের হাসুবুবুর মধ্যে। পিতার যোগ্য উত্তরসূরী বঙ্গবন্ধু-পরবর্তীতে বাংলাদেশের সবচাইতে যোগ্য শাসক হলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে এ যাবত কালের সবচেয়ে সফল রাষ্ট্রনায়ক। বাংলাদেশের আর কোন রাষ্ট্রনায়ক তাঁর মত সফল হননি। এটি আমার  মনগড়া কথা নয়। আমি গভীর আবেগ নিয়ে উপলদ্ধি করেছি। বঙ্গবন্ধু মানেই যেমন বাংলাদেশ ও বাংলার জনগণ, তেমনি শেখ হাসিনা মানেও বাংলাদেশ ও তার জনগণ। পিতার মত এদেশের মানুষকে নিজের জীবনের চাইতে বেশি ভালবাসেন তিনি। এক লৌহশক্তিতে বলীয়ান, নির্ভীক, অপরাজেয় শক্তির নাম শেখ হাসিনা। তাইতো ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলে তৎকালিন সেনা শাসক শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে দেশে ফিরতে দেয়নি। দেশে ফিরলে শেখ হাসিনা হত্যার শিকার হতে পারেন, এ কথা জেনেও মৃত্যুভয়ে ভীত না হয়ে তিনি ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসেন। দেশকে ভালো না বাসলে শেখ হাসিনা বিদেশেই থেকে যেতেন। শেখ হাসিনা না হয়ে অন্য কেউ হলে এত সাহস নিয়ে দেশে ফিরতেন কিনা সন্দেহ।  

দেশে এলেও সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান শেখ হাসিনাকে তাঁর বাড়িতে পর্যন্ত ঢুকতে দেননি। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার যেন না হয় সেজন্য ইনডেমন্যিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা দমে যাননি। শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্র তিনি জানেন। কারণ তাঁকে তো বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গঠন করতে হবে। শত বাধা উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। এ দলের উপরে দীর্ঘ ২১ বছর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিঃশেষ হয়নি। কারণ নেতৃত্বে আছেন আমার হাসুবুবু। বাংলাদেশের অন্য কোন দল হলে তাদের অস্তিত্ব থাকত কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তাঁর দৃঢ়তায় দীর্ঘ ২১ বছর সংগ্রামের পর বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের বিচার করা হয়। দেশ পিতৃহত্যার বিচারহীনতা থেকে পাপমুক্ত হয়।


এবার বাংলাদেশের জন্য শেখ হাসিনা কী কী করেছেন তার কিছু সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেই। শেখ হাসিনার অর্জন সম্পর্কে অনেক গবেষক ও লেখক বহু আলোচনা করেছেন। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরেই শেখ হাসিনা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁর আন্দোলনের কারণে দেশে সামরিক শাসন প্রতিহত হয় এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। শেখ হাসিনা নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তাঁর আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় এরশাদ সরকার। ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলসহ সকলকে সংগঠিত করেন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা বিএনপির ভোটারবিহীন অগণতান্ত্রিক নির্বাচনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। এ আন্দোলনের ফলে ৩০ মার্চ খালেদা জিয়ার সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করা শেখ হাসিনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। কেননা এ বিচারের মাধ্যমে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছিল। শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল স্থাপনের জন্য আইন প্রণয়ন করে। পরবর্তীতে এ আইনের অধীনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয়। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করছে সরকার। এসব পরিকল্পনা দেশের অর্থনীতিকে বদলে দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তোয়াক্কা না করে শেখ হাসিনা পদ্মা নদীর ওপর ৬ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করেন। যা বর্তমানে শেষের পথে রয়েছে। আরেকটি বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন। এ কাজে ব্যয় হবে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। অর্থাৎ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাকাশ জয় করলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক। বর্তমানে চলছে মেট্রোরেল, এলিভেটেট এক্সপ্রেস-এর কর্মকান্ড। দেশে প্রথমবারের মত ৬ লেনের ফ্লাইওভার নির্মিত হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকার ভারত ও মিয়ানমারের বিপক্ষে সমুদ্র বিজয় করেছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ছিটমহল সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনা বিশ্বের কাছে মানবতার নেত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও প্রযুক্তিখাতে অভাবনীয় উন্নতি করছে বাংলাদেশ। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, অর্থনীতি, খাদ্যসহ সবগুলো সেক্টরেই বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। এসব সাফল্য অর্জন সম্ভবই হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে। যে বাংলাদেশ বিএনপির শাসনামলে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছিল সেই বাংলাদেশকে এখন বিশ্ব সমীহের চোখে দেখে। কলামলেখক মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী একটি লেখায় লিখেছেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনে কাজ করে যাচ্ছেন। এ কারণে তাকে প্রায় ১৮/১৯ ঘণ্টা দৈনিক পরিশ্রম করতে হয়। তিনি সব প্রকার দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকে দেশ ও জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন। বলেছেন, তার হারাবার কিছু নেই, দেশকে কিছু দিতে কাজ করা ছাড়া, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা ছাড়া তার কোনো উদ্দেশ্য নেই। সেই লক্ষ্যে কাজ করে তিনি বাংলাদেশকে এখন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা দিতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাদেশের গ্রাম, শহর সর্বত্র পরিবর্তন দৃশ্যমান, জনজীবনে আশার আলো দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এর পেছনে ও সম্মুখে আছেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা।’ এসব কারণেই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি চারবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কেবল এ উপমহাদেশের নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি প্রভাবশালী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। পিপলস এন্ড পলিটিকস জরিপে তিনি বিশ্বের সেরা সৎ ৫ জন রাষ্ট্রপ্রধানের একজন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের বিবেচনায় বিশ্বের প্রভাবশালী ১০ জন নারীনেত্রীর একজন হলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁকে নিউ স্টার অব দ্য ইস্ট বলা হয়। বিভিন্ন জরিপে বিশ্বের ১০০ জন ক্ষমতাধর নারী ও চিন্তাবিদের তালিকায় বঙ্গবন্ধুকন্যা রয়েছেন। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করছেন, কেউ কেউ শেখ হাসিনাকে অনুসরণ করছেন। বর্তমানে শেখ হাসিনা যে একজন আন্তর্জাতিক নেতায় পরিণত হয়েছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। 


যখন বলা হয়, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক তখন অনেকেই দ্বিমত করতে চান। কিন্তু কোনো যুক্তি দিতে পারেন না। বঙ্গবন্ধুর পরবর্তীতে শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য যারা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করেছেন তারা নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিলেন। দেশের মানুষকে তারা নিজেদের উন্নয়নের সোপান হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন। ফলে দেশ এগোয়নি, সাধারণ মানুষ সুখ-শান্তিতে বাস করতে পারেনি। দুর্নীতি, অপরাধ, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন, সামরিক ও অবৈধভাবে ক্ষমতাদখলকারীরা সেই স্বপ্ন মাটিতে মিলিয়ে দিতে চেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নাম ও নিশানা মুছে দিতে চেয়েছে। পাকিস্তানীদের সাথে হাত মিলিয়েছে। যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। শেখ হাসিনার উপর বারবার প্রাণঘাতি হামলা করা হয়েছে। এতসব চক্রান্ত সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হত্যা করা সম্ভব হয়নি, করা সম্ভবও নয়। শেখ হাসিনাকেও হটিয়ে দেয়া সম্ভব হয়নি। উল্টো শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অনেক বেশি সমৃদ্ধশালী। বঙ্গবন্ধুকে অনেকেই দেখতে পারেননি। আজকে শেখ হাসিনাকেও অনেকে দেখতে পারেন না। বাংলাদেশের উন্নয়নও তাই তাদের চোখে পড়ে না। বরং উন্নয়নকে কীভাবে বাধাগ্রস্ত করা যায় তারা সেসব কাজ করেন হারহামেশাই। কিন্তু এতদিনে বাংলাদেশের মানুষ স্পষ্ট বুঝতে পেরেছে কোন দল ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয় এবং দেশ সামগ্রিকভাবে এগিয়ে যায়। আর কোন দল ক্ষমতায় এলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মাথা নিচু থাকে। তাই জনগণ এখন শেখ হাসিনার পাশে আছে, আওয়ামী লীগের সাথে আছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সবার সহযোগিতায় অচিরেই আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার কাজ সম্পন্ন করবো ইনশাল্লাহ।

কবির ভাষায় বলতে হয়,

‘শেখ হাসিনা এক অগ্নিসদৃশ নারী

খাদের কিনারে ছড়ায়ে খোলা চুল,

বিপদের বাস তার আঙ্গুলের মাঝে,

চোখ দুটো যেন অরণ্য সংকুল।

পৃথিবীর বিপক্ষে মূর্তিমতি তীব্র প্রতি বিষে,

পৃথিবী জানায় কুর্নিশ বিনা প্রশ্নে তাকে।’

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।


ড. মোহাম্মদ হাসান খান
সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চাঁদপুর জেলা।


    মতামত দিন