নিরীহদের প্রবাসে যাওয়ার স্বপ্নভঙ্গই তাদের বাণিজ্য!

নিরীহদের প্রবাসে যাওয়ার স্বপ্নভঙ্গই তাদের বাণিজ্য!

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুয়া ভিসা দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

আজ শুক্রবার বিকেলে র‌্যাব-৪ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব জানায়, চক্রটি বিদেশে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। এরপর দেশের বিভিন্ন জেলার বেকার যুবকরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে নানা অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভুয়া ভিসা ধরিয়ে দেয়।

চক্রটি কয়েক ধাপে প্রতারণা করতো। ২০১৩ সাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এয়ার ইন্টারন্যাশনাল এন্ড টুর, ব্যাঙ্গল টুরস এন্ড ট্রাভেলস, আলিফ টুরস এন্ড ট্রাভেলস, আরেফিন ট্রাভেলস, সানিম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, আশিক ট্রাভেলস, বেঙ্গল ট্রাভেল্স, এমএম ট্রাভেল্স, বাপ্পিমনি এন্টারপ্রাইজ এবং হাবিব ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন নামে ট্রাভেল এজেন্সি খুলে সাধারণ মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। এভাবেই দিনের পর দিন প্রতারিত হয়ে আসছে শত শত সহজ সরল সাধারণ মানুষ।

র‌্যাবরে হাতে গ্রেফতার প্রতারক চক্রের সদস্যরা হলো বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার মৃত ওসমান খলিফার ছেলে মোঃ লিটন (৩৫), পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মো. আব্দুর রহমানের মেয়ে সঞ্চিতা আক্তার সানজিদা ওরফে দীপা (২৪), মেহেরপুরের মল্লিকপাড়ার মোঃ শাহাদাৎ হোসেনের ছেলে মেহেরুল্লাহ হোসেন (৫০), কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মিলন মিয়ার মেয়ে মোসা. বিপাশা আক্তার (২৪), ৫. শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার মোঃ তজিমুদ্দিনের ছেলে মোঃ শফিক (৩৪) এবং এই চক্রের মূল হোতা হোতা লিটন ওরফে সোহান। এদের প্রত্যেকের অস্থায়ী ঠিকানা ছিলো ঢাকার ডেমরার বিভিন্ন এলাকা। 

গ্রেফতার হওয়া প্রতারকদের বরাত দিয়ে র‌্যাব আরো জানায়, এ চক্রটি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অফিস ভাড়া করে জাঁকজমকপূর্ণ চোখ ধাঁধানো ডেকোরেশন করে। যা দেখে গ্রাহক সহজেই আকৃষ্ট হয়। এরপর চক্রটি বিভিন্ন সংবাদ পত্রিকার মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রথমে অফিসের বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ করে থাকে। তাদের কাছেও নিজেদের প্রকৃত নাম পরিচয় গোপন করে জামানত হিসেবে টাকা নেয়। 

দ্বিতীয় ধাপে প্রতারক চক্রটি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন নামে অফিস তৈরি করার পর বিদেশে চাকরি ও ভিসা প্রসেসের কথা বলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়। বিজ্ঞাপনে তারা নিজেদের কোনো মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে না। তাদের নিয়োগ দেওয়া একজন অফিস কর্মচারীর নম্বর দিয়ে থাকে। ওই কর্মচারীর কাজ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যারা চাকরি ও ভিসা প্রসেসের জন্য যোগাযোগ করবে তাদের নাম ও মোবাইল নম্বর রেজিস্টারে লিখে রাখা এবং তাদেরকে অফিসে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো। 

যারা বিদেশে চাকরির আশায় অফিসে আসে কর্মচারীরা তাদের অফিসের পরিচালকের সঙ্গে দেখা করায়। পরিচালক বিদেশে চাকরি প্রত্যাশীদের চাকরিসহ বিদেশে পাঠানোর ব্যাপারে আশ্বস্ত করে। নির্ধারিত টাকার অর্ধেক ভিসা পাবার আগে এবং বাকিটা ভিসা হাতে পাবার পর দেওয়ার চুক্তি করে। পরবর্তীতে প্রতারক চক্রটি একটি নির্দিষ্ট তারিখে ভুয়া ভিসা, ম্যানপাওয়ার কার্ড ও এয়ার টিকেট হস্তান্তর করে। 

চাকরি প্রত্যাশীরা যখন বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এয়ারপোর্টে যায় তখন জানতে পারে তাদের ভিসা, ম্যানপাওয়ার কার্ড ও এয়ার টিকেট সবই জাল। এয়ারপোর্ট থেকে তারা সবাই যখন ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারে তারা প্রতারিত হয়েছে। 

প্রতারক চক্রের মূল হোতা লিটন ওরফে সোহান আইপি ক্যামেরার মাধ্যমে অফিসের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতো। যে কারণে তাকে কেউ কখনো দেখেনি।

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা ২টি কম্পিউটার, ১২টি মোবাইল, বিভিন্ন দেশের কর্মী পাঠানোর নামে তৈরি করা জাল ভিসা, জাল ম্যানপাওয়ার কার্ড, জাল এয়ার টিকেট, পত্রিকায়  প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের কপি এবং বিদেশে পাঠানোর জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে করা চুক্তিপত্র।


নাবা/ডেস্ক/তারেক

    মতামত দিন